পিচ ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে সবেমাত্র পাঁচ দিন। এরই মধ্যে হাতের টানেই উঠে আসছে সংস্কার করা সড়কের কার্পেটিং। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের চারিয়া থেকে মাকড়াইল বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কার স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু হলে খুশি হন এলাকাবাসী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, হাতের টানেই উঠে আসছে সড়কের পিচঢালাই। এমন চিত্র দেখে হতাশ স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দায়সারাভাবে কাজ করায় সড়কটি বেশিদিন টেকসই হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, হাটবাজার সব জায়গায় যাতায়াত করতে হয়। আমরা এতদিন অবহেলিত ছিলাম। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
তাজ্জত আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, এক ধরনের তেল আছে, সেটা (বিটুমিন) সড়কে না দিয়ে ঢালাই দিয়েছে। আমি এমন অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেননি। উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ জানান, ‘ছেপ দিয়া লেপ দিছে।
চারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, আমাদের এই রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্ট করে চলাচল করতে হয়েছে। এই রাস্তা তো বারবার হবে না। যে অবস্থায় রাস্তা হচ্ছে, তাতে কয়দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ কাজের মান যদি এমন হয় তবে তা শুধু টাকার অপচয় হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় মেসার্স তাজ উদ্দিন ফরাস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার কার্য মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের আগস্ট মাসে। কিন্তু চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কার্পেটিং কাজের শুরুর পরদিনই সমস্যা দেখে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, যা যা প্রয়োজনীয় তা দিয়ে সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, রাস্তা কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের নজরদারি থাকবে। কোনোভাবেই অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।