লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম ইসরাইলের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দলটির নিজস্ব সংবাদমাধ্যম আল-মানার টিভিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এই কট্টর অবস্থানের কথা জানান।
বিবৃতিতে নাঈম কাসেম স্পষ্ট করে বলেন, তারা আগের কোনো স্থিতাবস্থায় ফিরে যেতে রাজি নন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইল নতুন করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হিজবুল্লাহ প্রধান সরাসরি লেবাননের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইলকে আর কোনো ‘বিনামূল্যে ছাড়’ বা আপস দেওয়া চলবে না। শত্রুপক্ষের হুমকি বা আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে তারা ভীত নন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহই এই মাটির প্রকৃত মালিক।
নাঈম কাসেমের এই কড়া বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, আপাতত লেবাননের সাথে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। যদিও তিনি বৈরুতের সাথে সরাসরি আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে হামলা বন্ধের কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
এদিকে লেবাননে চলমান এই সংঘাত নিয়ে তেহরানও তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি লেবাননে চলমান ‘গণহত্যা’ বন্ধের দাবি তুলেছেন। অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরাইলের এই হামলাগুলো বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের কাছে এক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধানের ব্যক্তিগত সচিব এবং ভাগ্নে আলী ইউসুফ হার্শি নিহত হন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহর ওপর চালানো তাদের সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত এই ঘটনার পরপরই নাঈম কাসেমের পক্ষ থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই ঘোষণা এলো।
সূত্র: সিএনএন।