Image description

ফরিদপুর জেলায় হাম পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আজ শুক্রবার সকালে ইমেইল বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

​সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যজন মাদারীপুর এলাকা থেকে এসে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

​স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় দুজন এবং সালথা উপজেলায় একজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে সংক্রমণের সামগ্রিক চিত্রে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অবস্থা— বোয়ালমারীতে ১০ জন, আলফাডাঙ্গায় ছয়জন, মধুখালীতে তিনজন, সদরপুরে তিনজন, ফরিদপুর সদরে পাঁচজন, চরভদ্রাসন ও নগরকান্দায় দুজন করে।

​জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বড় দুটি সরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার হারও আশাব্যঞ্জক। এখানে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৯ জন এবং বর্তমানে মোট ১৬ জন চিকিৎসাধীন আছে। সুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছে ৮১ জন।

​ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে মোট ৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন তিনজনসহ বর্তমানে ভর্তি আছে ১৫ জন। এখন পর্যন্ত এখান থেকে মোট ৩২ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছে।

​হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘শিশুদের নির্ধারিত হামের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করুন। শরীরে জ্বর বা লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।