সংশোধনের অজুহাত যে "কৌশলী" আই-ওয়াশ সেটা প্রথম আলোর রিপোর্ট পড়লে বোঝা যায়

Image description
ব্রিটিশ রাজের সময় জিম করবেট মানুষখেকো বাঘ মেরে গ্রামবাসীদের রক্ষা করতেন। রাতের পর রাত জঙ্গলে-ঝোপে-ঝাড়ে মাচায় শুয়ে অপেক্ষা করার কাহিনী দিয়েও কিভাবে রিডারের ইন্টারেস্ট ধরে রাখা যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ওনার বই - তাই স্বাভাবিক ভাবে ছোট থাকতেই ওনার সব বই পড়ে ফেলেছি। এতে করে মানুষখেকো বাঘ নিয়ে খুব সলিড ধারনা ডেভেলপ করেছে।
প্রায় প্রতিটা বইতেই দেখতাম উনি এক্সপ্লেন করতেন কেন ওই বাঘটা মানুষখেকো হয়ে উঠেছে। কারণ ব্যাপারটা কোন নরমাল জিনিস না; মানুষখেকো হতে কোন না কোন ট্রিগারিং ইভেন্ট লাগে। কিন্তু একবার যদি কোন বাঘ মানুষখেকো হয়ে যায়, তাহলে তাকে মেরে ফেলা ব্যতীত আর কিছু করার থাকে না। কেন? কারণ সেই বাঘ বুঝে যায় যে মানুষ খাওয়া খুব সোজা, মানুষ খুবই সুস্বাদু, এবং ট্রিগারিং ইভেন্টের সার্কামস্ট্যান্স অনগোয়িং ইফেক্ট ফেলতে থাকে।
 
গুমের বিষয়টা সেরকম। দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা গম্ভীরভাবে এক্সপ্লেন করছেন: যেহেতু শেখ হাসিনার আগের কোন আমলে স্টেট স্পন্সার্ড গুম হয় নাই (নট কারেক্ট বাই দ্য ওয়ে, বেটার টু সে এত ব্যাপক হারে হয় নাই), তার মানে আইন না থাকলেই যে আবার গুম হবে এমন না, তাই গুমের আইন প্রয়োজন নেই। এসব লজিক কতটা অসার জনগণ আসলে বুঝে, তবুও ইতিহাসের স্বার্থে আস্তে ধীরে অনেক কিছু লিখে যেতে হবে মনে হচ্ছে।
 
গুমের সিস্টেমটার সাথে মানুষখেকো বাঘের তুলনা করতে পারেন। লিগ্যাল উপায়ে ল' এনফোর্সমেন্ট করা, আর উঠায় নিয়ে যেন-তেন উপায়ে যা খুশি করার মাঝে বিস্তর ফারাক। প্রথমটা অনেক কঠিন, সাকসেস রেট কম, আর খাটনি বেশি। যখন একবার রক্তের স্বাদ পেয়ে সিস্টেমটা ট্রিগার্ড হয়ে হাত পাকিয়ে ফেলেছে, তখন সিস্টেমটাকে মেরে ফেলা ছাড়া হাতে আর কোন অস্ত্র নাই। কারণ ওই যে - লিগ্যাল উপায়ে ল' এনফোর্সমেন্ট করা অনেক বেশি খাটনির। এগেন্সট দ্য টাইদ অফ কনভিনিয়েন্স, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট না।
 
এখানে আরেকটু বলতে হবে। ICPPED-তে স্বাক্ষর করার পর, গুমকে সংজ্ঞায়িত করে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ডোমেস্টিক আইন করা এখন রাষ্ট্রের লিগ্যাল অব্লিগেশান। একটা সরকার যে ক্লিয়ার লিগাল অব্লিগেশান ব্রেক করছে, সে গুম ফেরত না আনার বিষয়ে সিন্সিয়ার আছে এবং নেক্সট পাঁচ বছর সেই সিন্সিয়ারিটি ধরে রাখবে, এটা কেন বিশ্বাস করতে হবে? আর ষষ্ঠ বছর কী হবে? সেই সরকারও সিন্সিয়ার থাকবে? নাকি সদিচ্ছার-সরকার কখনও পরিবর্তন হবেনা? আমি লজিকটা বুঝতে পারছিনা।
 
সরকার সত্যিইই সিন্সিয়ার হলে অধ্যাদেশ ল্যাপ্স করে, আগামীকাল থেকে আইনি শূন্যতা সৃষ্টি করত না। যদি সত্যিই আইন আরও শক্ত করার জন্য যাচাই বাচাই করার প্রয়োজন হয়, তাহলে পরে সহজে সংশোধন করা যেত।
 
তবে সংশোধনের অজুহাত যে "কৌশলী" আই-ওয়াশ সেটা প্রথম আলোর পরশুদিনের একটা রিপোর্ট পড়লে বোঝা যায়। হুবুহু তুলে দিচ্ছি: "এ অধ্যাদেশগুলো সংশোধনী ছাড়া পাস করা হলে নির্বাহী বিভাগের কার্যকরিতা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সভায় বলা হয়, এই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে বাইরে নানা নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনা আছে।... বিএনপির সংসদ সদস্যদের বিলগুলোর ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য না দিয়ে 'অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে'—এমন কৌশলী বক্তব্য দিতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানা গেছে।"
প্রশ্ন জাগে: নির্বাহী বিভাগ গুমের ওপরে এক্স্যাক্টলি কী নিয়ন্ত্রণ চাচ্ছে যা আইন করলে ব্যহুত হবে?
 
সত্যি বলতে সামনে একটা সময় পর্যন্ত গুম হবে না এটা আমি আশা করি, তবে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার ওপরে ভরসা করে না। আমি আশা করি কারণ গত দেড় বছরের হ্যামার ব্লো-এর ফলে, আমার কাছে মনে হয়েছে ল' এনফোর্সাররা নিজেরাই এখন এটার ভেতর সহজে ঢুকবেন না। ঠিক যেভাবে সরকার চাক আর না চাক, সহজে গণহত্যা ফেরা কঠিন হবে কারণ পুলিশ এখন অকাতরে গুলি করতে রাজিই হবেনা। তেমন ল' এনফোর্সারদের বর্তমান সামষ্টিক সৎ নিয়ত আমাদের একটা গ্রেস পিরিয়ড দিবে। তবে খুব লম্বা গ্রেস পিরিয়ড হবে না, কারণ গুম লুকিয়ে করা যায়। শক্ত আইন না থাকলে, আলটিমেটলি রিস্ক যে কম - এটা কোন না কোন অতিউৎসাহী অফিসার খুব শীঘ্রই বুঝে যাবেন।
 
আমরা কী হারাতে যাচ্ছি ভাবলে কস্ট হয়। একটা widespread এবং systematic অপরাধ বাংলাদেশ রাতারাতি প্রায় জিরো করে দিয়েছিল। What a thing to lose.
*
(বাই দ্য ওয়ে, পরশুদিন থেকে কেউ গুম হলে ICT-তে গেলেই প্রতিকার পাবে, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা - এটা বারবার কেন বলছে আমি জানিনা - আমি ব্যাখ্যা কমেন্টে দিয়ে দিচ্ছি। বাস্তবে আগামীকাল থেকে বাংলাদেশে নতুন করে সঙ্ঘটিত গুমের কোন সংজ্ঞাই নাই, প্রতিকার দূর কি বাত।)


author

Ari budin

#

Programmer, Father, Husband, I design and develop Bootstrap template, founder