আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজ কঠিন ইবাদত। একে জিহাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এ কারণে এতে সওয়াবও বেশি এবং উপকারিতাও অনেক। হজের জন্য সৌদি আরবের মক্কায় যেতে হয় এবং বিশেষ বিশেষ স্থানে একসঙ্গে লাখো মানুষ ইবাদত করে থাকে, তাই তা কঠিন ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে অনেক মানুষের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে তা আদায়ের শক্তি রাখে না। এ ধরনের অক্ষমের প্রতি মেহেরবানি করে আল্লাহ বদলি হজের অবকাশ দিয়েছেন ।
বদলি হজ কী
দৈহিক ও আর্থিক সক্ষমতার পরও যদি কেউ হজ না করে মারা যায় কিংবা হজ করার সক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে, তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে যে হজ করানো হয়, তাই বদলি হজ। বদলি হজ করানোর জন্য উত্তরাধিকারীদের অসিয়ত করে যাওয়া ফরজ।
বদলি হজের বিধান
বদলি হজ করানোর মাধ্যমে হজ না করার দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায়। এ জন্য একজন বিশ্বস্ত এবং ফরজ হজ আদায়কারী ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তির সম্পদ থেকে এ হজের যাবতীয় খরচ দিতে হবে। প্রেরিত ব্যক্তি হজের ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে নিয়ত করবেন—এটি ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করছেন। হজ করেছেন এমন নেককার ব্যক্তিকেই বদলি হজের জন্য পাঠানো উচিত। হজ করেননি—এমন ব্যক্তিকেও পাঠানো যাবে।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘ফজল (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাহনে তাঁর পেছনে বসা ছিলেন। এ সময় খাসয়াম গোত্রের এক নারী এসে বলল, বৃদ্ধ অবস্থায় আমার পিতার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সময় হজ ফরজ হয়েছে, যখন তিনি বাহনের ওপর বসে থাকতে পারছেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারব? তিনি বললেন, হ্যাঁ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৫৫)
আরেক হাদিসে আছে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এক নারী রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, আমার মা হজ করার মান্নত করেছিলেন। হজ করার আগেই তিনি মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ করো...।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩১৫)
বদলি হজের নিয়ম
সাধারণ হজের মতোই বদলি হজ আদায় করতে হবে। এর জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। তবে পার্থক্য হলো, নিয়ত ও তালবিয়ার সময় বদলি হজে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে হজের নিয়ত করতে হবে। এরপর হজের সব কাজ এক ও অভিন্ন। নিয়তটি এমন হতে পারে—‘আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজের নিয়ত করছি।’
যার পক্ষ থেকে বদলি হজ করানো হচ্ছে, তার শহর থেকে বদলি হজ শুরু করা উচিত। হজ বদলের ক্ষেত্রে ইফরাদ (শুধু হজের ইহরাম) করা উচিত। প্রেরকের পক্ষে থেকে সাধারণ অনুমতি থাকা উচিত। যাতে হজ আদায়কারী নিজের মতো করে সব কিছু করতে পারেন। প্রেরকের সম্পদ থেকে খরচ করতে হবে। খরচে সততা ও সতর্কতা জরুরি।
বদলি হজ করানোর পর ব্যক্তি সুস্থ হলে
বদলি হজ করানোর পর সেই অসুস্থ ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে যান, সম্পদ থাকে এবং হজে যাওয়ার সক্ষমতা ফিরে পান, তবে তার ওপর আবার নিজে সশরীরে হজ আদায় করা আবশ্যক হবে। আগের বদলি হজটি নফল হয়ে যাবে।