গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনে বসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে তিনি অনশনে বসেন।
সাদিক কায়েম বলেন, গত ১৬ বছরে যারা বক্তব্য দিয়েছে, আজকে যারা মন্ত্রী হয়েছে, তারা বারবার বলেছিল এই সংবিধান, মুজিববাদী সংবিধান তারা ছুঁড়ে ফেলবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেছিলেন, যেদিন এই দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলা হবে। কিন্তু আজকে আমরা আবার সেই ফ্যাসিবাদীদের মত যারা এখন সরকারে এসেছে, বিএনপি সরকার, তারেক জিয়ার সরকার, সংবিধানের প্রতি তাদের দরদ দেখতে পাচ্ছি। তারা আবার এককভাবে সকল ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ, সেই বিচার বিভাগের মধ্যে যে ভারসাম্য, চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্সের জন্য যে জুলাই সনদ হয়েছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য যে সুপারিশগুলো এসেছে, তারা সেগুলো মানতে চায় না। সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে অধ্যাদেশগুলো হয়েছে, সে অধ্যাদেশগুলোকে তারা আজকে অস্বীকার করছে।’
ডাকসু ভিপি বলেন, এটা খুবই অবাক লাগে, আজকে তারা গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশ, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। তারা দুদকের সংস্কারের যে অধ্যাদেশ, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের যে অধ্যাদেশ, সেগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে। বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে অধ্যাদেশ, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা, শক্তিশালী করার জন্য যে অধ্যাদেশ, সেটা তারা বাতিলের সুপারিশ করেছে। যে আর্থিক খাত লুণ্ঠনের মাধ্যমে দেশের অর্থব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যে ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ হয়েছে, সেটা বাতিলের সুপারিশ করেছে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্ম কমিশনের যে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, আবার একপাক্ষিক নিয়োগ করার জন্য পিএসসি সংস্কারের যে প্রস্তাবনা- সেগুলোতে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তো আমরা তো দেখতে পাচ্ছি, সেই হাসিনার কাঠামোতে এই রাষ্ট্রকে তারা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।