Image description

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটকে রাখে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেছেন।

 

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

 

উদ্ধার করা সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির গণিতের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

 

২০২৩ সালের ১ জুন নিজের বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে মৌখিকভাবে বিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় বলে জানা গেছে।

 

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করানো, মার্ক কম দেওয়াসহ নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করতেন। প্রাইভেট পাড়ানোর সময় মেয়ে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করতেন।

 

২০২৩ সালের ১ জুন নিজের বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় এক শিক্ষার্থীকে আপত্তিজনক হয়রানি করেন তিনি। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে অভিভাবকদের জানালে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন এবং তার শাস্তি দাবি করেন। হয়রানির অভিযোগে জনরোষ থেকে বাঁচতে ওই সময় তিনি দোয়ারাবাজার ত্যাগ করেন।

 

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছালেক মিয়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

 

এরপর দীর্ঘদিন সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে একবার বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফিরে যান। দুই বছর পর হঠাৎ করে আজ সকালে তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে চান।

 

বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে তাকে পাঠদানে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে বিদ্যালয়ের একটি রুমে আটক করে রাখা হয় এবং তার শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়।

 

পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দোয়ারাবাজার থানার ওসি এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন।

 

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার দাসের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলেন।’

 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ দুই বছর ধরে নাকি অনুপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ করে আজ তিনি বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তার শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে রেখেছিল। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফের বিরুদ্ধে শারীরিক হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ২০২৩ সালে তাকে বিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের পর ওই সময়ে চার সদস্য তদন্ত কমিটি তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মাউশি থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

 

ইউএনও বলেন, আপত্তিজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের পরে আরও একবার তিনি এসেছিলেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ফিরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে আজ আবারও বিদ্যালয়ে যোগদান ও পাঠদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায় ও তাকে আটক করে রেখে শাস্তির দাবিতে মিছিল নিয়ে আমার অফিসে আসে। শিক্ষক সাখাওয়াত উল্লাহ মারুফ নিজেও নিরাপত্তার জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলেন। পরে থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।