প্রাণঘাতী গুপ্ত অস্ত্র পেন গান দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও এটি আসলে অত্যাধুনিক একটি পিস্তল। সম্প্রতি এই ইউনিক পেন গানটি দেশের সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছেছে এবং ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাই-প্রোফাইল টার্গেট কিলার ও সিক্রেট এজেন্টরা যেভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এই গান ব্যবহার করে, তা বাংলাদেশে কীভাবে পৌঁছাল?
তদন্তে জানা গেছে, ওই পেন গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। সেদিন যুবদল সদস্য রাসেলকে পুরান ঢাকার প্রসন্ন পোদ্দার লেনে ডেকে নিয়ে তার বুকে গুলি চালায় সায়মন। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন। চিকিৎসাধীন রাসেলের অভিযোগ, দোকান নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় শুটার সায়মনের পর ধরা পড়ে সোহেল ওরফে কাল্লু। আসামিসহ কেরানীগঞ্জে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। টেবিলের ড্রয়ার থেকে বের করা হয় সিগারেটের প্যাকেট। পাওয়া যায় পলিথিনে মোড়ানো ৫টি টুকরো। সেগুলো জোড়া লাগিয়েই তৈরি হয় পেন গানটি।
ডিএমপির প্রশাসন ও গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, শুটিংয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণ অপরাধীরা যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে, তার চেয়ে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং ইউনিক। দেখতে একেবারে কলমের মতো, তাই ‘পেন গান’ নামে পরিচিত। এর আগে এমন অস্ত্র ব্যবহারের কোনো ঘটনা আমাদের কাছে আসেনি, তাই এর উৎস এবং দেশের মধ্যে প্রবেশের পথ খুঁজে বের করাই আমাদের লক্ষ্য।
ডিবি জানিয়েছে, পেশাদার কিলার কাল্লু এই পেন গানটি ৮০ হাজার টাকায় কিনে ব্যবহার করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সে নানা অপরাধে জড়িত ছিল। মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম আরও বলেন, কাল্লুকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দেখা হবে, এ ধরনের অস্ত্র আগেও সে ব্যবহার করেছে কিনা। কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে বা নিজে কিনে এনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যার যার সংশ্লিষ্টতা থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা আন্তরিক।
প্রতিবেশী দেশে তৈরি পেন গান বাংলাদেশে কীভাবে ঢুকল-সেটা অনুসন্ধান করছে গোয়েন্দা পুলিশ।