রাজস্ব আয় বাড়িয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং কর আদায়ে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এই দুই বিভাগ গঠনের অধ্যাদেশ জারি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া রাজস্ব খাত সংস্কারের সেই অধ্যাদেশ এখনই আইনে পরিণত করছে না বর্তমান সরকার। অধ্যাদেশটি সংসদে না তোলায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার কার্যক্রম।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার চাইলে যেকোন সময় বিলটি সংসদে তুলে কার্যকর করতে পারে। রাজস্ব ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিতে এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ চাইছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা হয় রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ। এর মাধ্যমে এনবিআর ভেঙ্গে নীতি ও ব্যবস্থাপনা নামে আলাদা দুটি বিভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অধ্যাদেশটি এখনই সংসদে বিল আকারে তুলছে না। সংসদীয় কমিটি অধ্যাদেশটি বিল আকারে না তুলে আরও যাচাই বাছাই করার সুপারিশ করেছে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে উত্থাপন করতে হয়। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে কার্যকারিতা হারায় অধ্যাদেশ। সে হিসেবে, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশটি সংসদে পাস করা না হলে কার্যকারিতা হারাবে এই সংস্কার উদ্যোগ।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে বিল উত্থাপিত না হলেও, সরকার চাইলে যেকোনো সময় এটি আবার কার্যকর করতে পারে।
এ বিষয়ে আয়কর বিশ্লেষক আশরাফ হেসেন খান বলেন, এ অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে গেল মানেই যে এই আইনটা একেবারেই চলে গেল (এমন নয়)। নতুন করে সরকার চাইলে, দেশের কল্যাণের জন্য, দেশের রেভিনিউয়ের জন্য, দেশের জনগণের জন্য যেকোনো অধ্যাদেশ যেকোনো আইন সরকার করতে পারে। যেকোনো বিল আকারে এনে পরবর্তীতে সরকার সেটা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে আইনে পরিণত করবে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সব ধরণের সংস্কার করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। সংস্কারের মাধ্যমে নীতি বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করলে সেটা যদি রেভিনিউয়ের জন্য ভালো হয় তাহলে সেটাই করবে সরকার।
রাজস্ব বিভাগ আলাদা হোক বা না হোক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি সুশৃঙ্খল কর ব্যবস্থা চান ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের সহ-সভাপতি মো. ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সার্বিক উদ্দেশ্য ছিল একটা গবেষণাভিত্তিক নীতি নির্ধারণ করা। দেশের যে রাজস্ব নীতি, সেটা যেন অর্থনৈতিক নীতির (ইকোনোমিক পলিসির) সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এটা আলাদা নীতি হোক, কিংবা আলাদা না হোক, এই উদ্দেশ্যটা আমাদের অর্জিত হলেই চলবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে দাতা সংস্থা আইএমএফ-এর ঋণ প্রাপ্তি নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বাংলাদেশ।
শীর্ষনিউজ