Image description

জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ নারীকে পেছনে ফেলে ‘নতুন বাংলাদেশ’ রচনার চিন্তা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

রুমিন ফারহানা বলেন, হাজার মানুষের আত্মত্যাগের ফসল হচ্ছে আজকের এই সংসদ। আমরা আজ যারা মন্ত্রী-এমপি হয়ে এখানে বসেছি, আমাদের মনে রাখতে হবে সেই মানুষগুলোর কথা।

তারা জানত এই ত্যাগের বিনিময়ে তারা নিজেরা মন্ত্রী বা এমপি হবে না। তারা ছিল এদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
তারা একটি নতুন রাজনীতি, নতুন চিন্তা এবং বৈষম্যহীন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের সেই স্বপ্নের কাছে আমরা সবাই ঋণী।

 

গণঅভ্যুত্থানের চেতনা দেয়ালে দেয়ালে লেখা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের সেই প্রত্যাশা অলীক কোনো বিষয় ছিল না। এখনও দেয়ালে তাকালে দেখা যায় তারা লিখে গেছে—‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দেশটা কারো বাপের না’, ‘হামার ব্যাটাক মারলু কেনে?’। এই লড়াই কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই ছিল না। এই গণঅভ্যুত্থান ছিল এমন এক বাংলাদেশের জন্য যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা লৈঙ্গিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখা হবে না।

আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ও বর্তমান বৈষম্য তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন একঝাঁক তরুণী ও নারী। পুলিশের টিয়ারশেল আর লাঠিচার্জের সামনে তারাই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। অথচ এক বছর না যেতেই সেই নারীরা হারিয়ে গেলেন কেন? আজ এই সংসদে মাত্র সাতজন নারী সংসদ সদস্য। এই প্রশ্নটা আমি আপনাদের কাছেই রেখে যাচ্ছি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অস্থির সময় নারীর সাহায্য ছাড়া পার হওয়া যায় না, অথচ সবকিছু যখন ঠিক হয়ে যায়, তখন সেই নারীই আবার ট্রলের শিকার হন। নারীর পোশাক, চেহারা, কথা এবং হাসিকে উপহাসের বস্তুতে পরিণত করা হয়। আমি সংসদকে বলে যেতে চাই—৫২ শতাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে নতুন বাংলাদেশ রচনার স্বপ্ন কোনোদিন সফল সম্ভব না।