Image description

হত্যাচেষ্টা, মানবপাচার এবং অস্ত্রসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি এখন খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অভিযোগটি উঠেছে জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি পাচার চক্রের হোতা ও উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরনবী সরকারের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সম্প্রতি ঋণের টাকা পরিশোধের প্রলোভন দেখিয়ে রাসেদ মিয়া নামে এক যুবকের কিডনি কেটে নেওয়ার অভিযোগে নুরনবীসহ চারজনের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট আমলি আদালত-৫-এ মামলা হয়। তবে মামলার তিন দিন পার হতে না হতেই বাদীর ওপর চড়াও হন নুরনবী। লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী যুবক মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হন।

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার পাশাপাশি নুরনবী এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। বিভিন্ন তদবির ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কালাই থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি চরম অশোভন আচরণ করেছেন। এমনকি কর্মকর্তাদের ‘ফ্যাসিস্ট অফিসার’ বলে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় কালাই থানায় তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়রি (জিডি) মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, গত এক যুগে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে কিডনি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন নুরনবী। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে তিনি বিএনপিতে ভিড়ার চেষ্টা চালান। সম্প্রতি তাকে কালাই উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য পদ দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরনবীর নৌকার মিছিলের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তোপের মুখে সেই কমিটি বাতিল করে জেলা কৃষক দল।

 

অভিযুক্ত নুরনবী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাসেদ মিয়ার করা কিডনি মামলাটি আদালতের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। আর আগের মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই ‘কিডনি নুরনবীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

উদয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নুরনবী কোনোভাবেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, বরং তিনি একজন সুযোগ সন্ধানী অপরাধী।

এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী নাফিউৎ জামান তালুকদার ডলার বলেন, আপসনামার মাধ্যমে বাদী রাসেদ মিয়া আদালতের মামলা প্রত্যাহার করেন।

কালাই থানার কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি ও অপদস্থ করার অভিযোগে জিডি করা হয়েছে এবং তা আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি মামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।