ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় হঠাৎ করে কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রতি আস্থা কমে গেলে গ্রাহকদের মধ্যে একযোগে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা একটি সুস্থ ব্যাংককেও সংকটে ফেলতে পারে।
এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং এর পেছনে আইনের দুর্বল প্রয়োগ বড় কারণ। অনেক ক্ষেত্রে মামলা, পুনঃতফসিল বা স্বল্প ডাউন পেমেন্টের সুযোগ নিয়ে প্রকৃত ঋণের অবস্থা আড়াল করা হয়।
তিনি বলেন, ঋণ খেলাপির প্রকৃত চিত্র অনেক সময়ই প্রকাশ পায় না, কারণ বিভিন্ন উপায়ে তা লুকানো সম্ভব হয়। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হবে।
বিশেষ করে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি’দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যে ঋণ নেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আয় বৃদ্ধি এবং কর আদায় বাড়ানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন : ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ডসহ অন্যান্য প্রকল্প চালিয়ে যেতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। এজন্য আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির গতি সচল রাখা এখন সময়ের দাবি।