গত ২৮ মার্চ, ২০২৬ শনিবার এলজিইডি ভবনে দিনব্যাপী এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এলজিআরডি মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভার আলোচ্যসূচি ছিল- এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা। তবে সভার আলোচনার মাঝে একাধিকবার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলতে দেখা যায়, “আই ফিল ইনসাল্টেড। আমি যতদিন চেয়ারে আছি কোনো অন্যায়-অনিয়ম হতে দেবো না। প্রয়োজনবোধে চেয়ারে থাকবো না।” কি কারণে, কার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলছিলেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে সবাই বুঝতে পারছিলেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীসহ কেউ কোনো ‘টু’ শব্দটি করেননি এ ব্যাপারে।
এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী, শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ মিয়াকে সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওই সময় গোটা সরকারেই ব্যাপক তোলপাড় চলছিল। আব্দুর রশিদ মিয়ার এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগে থেকে মোটেই জানতেন না, যদিও এ ধরনের কোনো নিয়োগে তার হাত দিয়েই প্রস্তাব যাওয়ার কথা ছিল। প্রজ্ঞাপন জারির পরে দেখা গেলো, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য গোপন করে আব্দুর রশীদ মিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এবং এতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রস্তাব যায়নি।
আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির একজন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তদন্ত চলছিল। দেশের ক্লিন ইমেজের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। কিন্তু তিনি এর কিছুই জানতেন না। বস্তুত এ কারণেই মির্জা ফখরুল নিজেকে হেয় বা অপমাণিতবোধ করছিলেন। এলজিইডি ভবনের সভায় এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শুধু এলজিইডি ভবনের সভায়ই নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও তিনি একই কথা জানিয়েছেন। আর এতে একই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অফিস খোলার দিনই, ২৯ মার্চ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে আব্দুর রশীদ মিয়ার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চ. দা) হিসেবে অবসর নেন। আওয়ামী লীগ আমলে অত্যন্ত ক্ষমতাবান কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের তদন্ত চলাকালেই ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন অবৈধভাবে। দেখা গেলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও রাতারাতি তিনি ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছেন। দুর্নীতির তদন্তের মধ্যেই চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদায়ন বাগিয়ে নিয়েছেন। সবচেয়ে অবাক-বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, বিএনপির এই আমলে আব্দুর রশিদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘটনাটা। আওয়ামী লীগ আমলে অবৈধ সুবিধা পাওয়া কোনো কর্মকর্তা বিএনপি আমলে বিশেষ কোনো সুবিধা পাবে না, এটাই ছিল স্বাভাবিক। তাছাড়া দুর্নীতিবিরোধী সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী কমিটমেন্টও রয়েছে।
এই মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। সবাই তা জানতো। কিন্তু এখন এই অস্বাভাবিক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় হঠাৎ করে আব্দুর রশীদ মিয়া নিজেকে বগুড়ার সন্তান বলে দাবি করতে থাকেন। শুধু আব্দুর রশীদ মিয়াই নয়, বগুড়ার আশপাশে বাড়ি- সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের অনেকেই এখন এমন ভূমিকা নিচ্ছেন। ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ আমলে যেমনটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের ক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগ আমলে গোপালগঞ্জ পরিচয়ে গর্ববোধ করা হতো। দেখা গেছে, খুলনা-বাগেরহাটে বাড়ি এমন ব্যক্তিরাও নিজেদেরকে গোপালগঞ্জের বলে দাবি করতেন। একই পরিস্থিতি ঘটছে এখন বগুড়ার ক্ষেত্রেও। বিশেষ করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এখন সবাই বগুড়ার ছায়াতলে আসছেন, বগুড়া বাড়ি হোক বা না হোক। এর কারণ হলো, বগুড়ার পরিচয়ে অতীতের সব অপকর্ম চাপা পড়ে যাচ্ছে। যাদের বাড়ি বগুড়া বা বগুড়ার আশপাশে নয় অর্থাৎ বগুড়া সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ নেই, তাদেরও কোনো সমস্যা নেইÑ শুধুমাত্র একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে ম্যানেজ করার ক্যাপাসিটি থাকলেই সবকিছু সহজ হয়ে যাচ্ছে।
বগুড়া কেন্দ্রীক সিন্ডিকেট
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় এবং তিনি বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছেন। পৈত্রিক ভিটা হিসেবে ইতিপূর্বেও বগুড়ার সঙ্গে তারেক রহমানের বরাবর একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিল। বিএনপির আগের আমলে তিনি মাঝেমধ্যে বগুড়ায় গিয়ে সময় কাটাতেন। বগুড়ার উন্নয়নেও নজর দিতেন। বগুড়ার প্রতি তারেক রহমানের এই দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে তাঁর অজান্তেই বগুড়াকেন্দ্রীক শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রী এবং একজন সিনিয়র সচিব। এই সিন্ডিকেটের সবাই যে বগুড়ার অধিবাসী তা নয়। কিন্তু এই প্রতিমন্ত্রী একাই এতটা ক্ষমতাবান যে, সিনিয়র মন্ত্রী বা বিএনপির সিনিয়র নেতারাও কেউ তার অপকর্ম নিয়ে কিছু বলার সাহস পান না। তিনি শুধু নিজেরই মন্ত্রণালয় চালান তা নয়, সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ের ওপর তার একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে। তিনি সরকারের যেখানে যা চান, তাই হয়- সেটি নিয়মে হোক, অনিয়মে হোক। মন্ত্রীরাই তার ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছু বলার সাহস পান না, সচিবরা তো দূরের কথা! এমনও কথা প্রচারিত আছে যে, অন্যদের মন্ত্রীত্বের পদও এই প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া-না চাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
শুধু মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীদের দপ্তরই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও এই প্রতিমন্ত্রীর হাতের মুঠোয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হয়েছে তার ইচ্ছের ওপর গুরুত্ব দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রটোকল অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সুপারিশের বাইরে গিয়ে। যার নজির অতীতে বাংলাদেশে শুধু নয়, বিশে^র অন্য কোথাও আছে বলে জানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর পিএস পদে মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে নিয়োগের আগে তাকে ‘গুপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। কিন্তু তারপরও তিনি নিয়োগ পেলেন প্রতিমন্ত্রী-মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে, যদিও তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের ডামুড্যায়।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি ভেস্তে যাওয়ার আশংকা
ওয়ান-ইলেভেনের সামরিক অভ্যুত্থান অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের একমাত্র ইস্যু ছিল ‘দুর্নীতি’। যদিও ওয়ান ইলেভেনের দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানের অন্তরালে ওই অন্তর্বর্তী সরকারের লোকজনই বড় মাপের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। এবং পরবর্তীতে এর দায়ে অভিযুক্তও হয়েছিল। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বড় বাধা এখন দুর্নীতি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ প্রতিটি খাত অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় ডুবে আছে। তাই ‘দুর্নীতি দমন’ এবং ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ দেশের সাধারণ মানুষের এখনকার প্রধান চাওয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ দিকটি বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি ‘দুর্নীতি দমন’কে তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি বার এ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারেও এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির ‘টুটি চেপে’ ধরবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের এই কর্মসূচিকে ব্যর্থ করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে নানাভাবে। এরমধ্যে বড় চক্রান্ত হলো, বগুড়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভেস্তে যাওয়ারও আশংকা তৈরি হয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে সক্রিয়
বগুড়ার নামে এই সিন্ডিকেটটি গড়ে উঠেছে মূলতঃ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই। ওই সময় এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ কয়েকজন প্রকাশ্যে থাকলেও নেপথ্যে থেকে এর পুরো নেতৃত্ব দিয়েছেন আজকের এই প্রতিমন্ত্রী। এদের লাগামহহীন অপকর্মে বিএনপির ভাবমুর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হলেও সেদিকে নজর দেওয়া হয়নি। এদের সেই অপকর্মের ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত আছে। যার অন্যতম নজির হলো, এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী পদে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আব্দুর রশীদ মিয়াকে গোপনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘটনা।
বিএনপির শিশু বয়সের সরকার এখন। এটিকে ‘মধুচন্দিমা সময়’ বলা হয়ে থাকে। সাধারণতঃ এই সময়ে গণমাধ্যমগুলো সরকারের নেতিবাচক দিকগুলো এড়িয়ে চলে। সরকারকে কোনো রকমের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায় না। কিন্তু অন্যদিকে এটা একটা সমস্যাও বটে। এই সময়ে জনপ্রিয়তার ক্ষতি হলে বোঝার উপায় থাকে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি খাতের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা এখন প্রায় সবাই এখন একে একে এই সিন্ডিকেটের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন। এতে তারা ফলও পাচ্ছেন। মন্ত্রীরা কেউই এখন পর্যন্ত দুর্নীতি বিরোধী দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা অভিযানে নামেননি এই একই কারণে। সরকারি বিভিন্ন খাতে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা গেছে, কোথাও এর আঁচড় পড়েনি। একমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে কিছুটা পরিবর্তন আনছেন নিজের মন্ত্রণালয়ে। চাঁদাবাজি দূর করার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। এছাড়া অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে এর ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নামতে আনঅফিসিয়ালি নিষেধ করা হয়েছে সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীরা প্রায় সবাই এটি মানছেন বা মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে শুধু এলজিইডি-ই নয়- সড়ক বিভাগ, রেল বিভাগ, নৌ-পরিবহন খাত, স্বাস্থ্য খাত, বিদ্যুৎ-জ¦ালানি খাতসহ সরকারের প্রায় প্রতিটি খাতই আগের মতো একই কায়দায় চলছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের শীর্ষ দুর্নীতিবাজরা সবাই এখন পর্যন্ত বহাল-তবিয়তেই রয়েছেন। সিন্ডিকেটের সঙ্গে এদের সবারই গোপন সমঝোতা হয়ে গেছে।
এই সিন্ডিকেটের জুনিয়র সদস্য, মিঞা আশরাফ রেজা ফরিদীও এখন এতটা ক্ষমতাবান যে, তিনি নিজেকে মন্ত্রীদের সমপর্যায়ের বা উপরের স্তরের বলে মনে করেন। তদবিরের প্রয়োজনে সরাসরি মন্ত্রীদের ফোন করে কথা বলেন বলে জানা গেছে। মন্ত্রীদের অনেকের পিএস পদেও তিনি নিজের পছন্দের লোককে বসিয়েছেন, যারা আওয়ামী দোসর অথবা ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত। ফরিদী ইতিমধ্যে সিনিয়র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, তার মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) অন্য মন্ত্রীদের মন্ত্রী। তাই তিনি সরাসরি মন্ত্রীদের ফোন করতে পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। সচিবরা সবাই এবং মন্ত্রীরা অধিকাংশই এই সিন্ডিকেটের ভয়ে তটস্থ থাকেন বলে জানা গেছে। এটিকে বিএনপির ছায়া সরকার নামেও কেউ কেউ আখ্যায়িত করে থাকেন।
ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাই নন, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মহাক্ষুব্ধ বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা। শীর্ষনিউজ ডটকম এবং সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মন্ত্রী-সচিব এবং সিনিয়র নেতারা ছাড়াও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরাও অনেকে এখন এই সিন্ডিকেটের অস্বাভাবিক ক্ষমতার প্রভাবের কথা জেনে গেছেন। এ নিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনায় ভেতরে ভেতরে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে এখনকার প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের প্রতিমন্ত্রী বা তার সহযোগীদের কোনোই ত্যাগ-তিতিক্ষা নেই। এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পিএস পদে থাকলেও, বিএনপির গুলশান অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে সুযোগ-সুবিধা নিলেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে কাছে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তিনি আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের মেয়ের জামাই এবং মেয়ের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর হঠাৎ করে সচিবালয়ের নেতা বনে গেছেন। অথচ এরাই এখন সরকারের নীতিনির্ধারকের ভূমিকায় আছেন।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘকাল ধরে জেল-জুলুম খাটা সিনিয়র নেতারা সরকারে ভালো কোনো অবস্থান পাননি, কেউ কেউ কিছুই পাননি- শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের অনিচ্ছার কারণেই। দীর্ঘকাল আন্দোলনের মাঠে থাকার সময়ে কারো কারো ছোটখাটো ভুলত্রুটি থাকতে পারে হয়তো, সেগুলোকে এখন ফুলিয়া-ফাঁফিয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মাঠে-ময়দানেই ছিল না এমন ব্যক্তিদের টেনে রাতারাতি উপরে তোলা হয়েছে, সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফলিও দেওয়া হয়েছে। এর নেপথ্য কারণ হলো, হঠাৎ করে অস্বাভাবিক পদ পাওয়া নতুন এই মন্ত্রীরা সিন্ডিকেটের কথা অনুযায়ীই চলবেন বরাবর, কথার বাইরে যাবেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এভাবে চলতে থাকলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ খুব শিগগিরই প্রকাশ্যে রূপ নিতে পারে। এবং এটি স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের সময় বিএনপিকে মহাবিপাকে ফেলতে পারে।
শীর্ষনিউজ