গণরায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণরায়কে উপেক্ষা নয়, সম্মান জানাতে হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপি জাতির স্বার্থ বিবেচনায় না এনে দলীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশসমূহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জারি করা অধ্যাদেশ স্বাভাবিক সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহার করার জন্য কোনো কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপকল্পে আনীত অধ্যাদেশসমূহ লোপ করে দেওয়া হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ জারি করে ফ্যাসিবাদের আমলে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তখন ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ জারি হয়। এতে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ তৈরি করা হয়। যদিও বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি সরকারের হাতে দেওয়া হয়।
চারটি অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইনের অন্যান্য ধারার ওপর প্রাধান্য দিয়ে (যা কিছুই থাকুক না কেন) সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়। ফলে আগের মতো নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যাকে খুশি তাকে, যখন খুশি তখন অপসারণের পথ খুলে যায়।
তার মতে, ৫ আগস্টের পর বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা এই অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে স্বাভাবিক সময়েও স্থানীয় সরকারকে নির্বাহী বিভাগের খেয়াল-খুশির ওপর ছেড়ে দিলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা তার স্বকীয়তা হারাবে এবং জনরায়কে ইচ্ছামতো উপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হবে।
গণরায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান আতাউর রহমান।
গণরায়কে সম্মান জানানোর দাবি তুলে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটকে অধ্যাদেশ অনুমোদন করে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে জারি করা স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে গণরায়কে সন্মান জানানোর চর্চা করুন।