Image description
বিএনপি বড় বড় সংস্কারগুলো করবে না, এটা জানাই ছিল।
কিন্তু গুম অধ্যাদেশটাও বাতিল কইরা দেবে, এইটা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।
জুলাই এর পর, একটা মহাপরাক্রমশালী পার্টির এমন পতনের পর আমাদের আবার গুম নিয়ে কথা বলতে হবে, "গুম করা খারাপ" বোঝাতে হবে, ভাবিনি।
মনে পড়ে, ৫ আগস্টের পর একের পর এক আয়নাঘরের বন্দিরা বের হয়ে আসতেসিল।
 
লজ্জা, ঘৃণা, ক্ষোভ আর দু:খ নিয়ে লোকগুলোর দিকে তাকাইয়া থাকতাম আর ভাবতাম, এই মানুষগুলো তাদের জীবন দিয়ে আয়নাঘর বন্ধ করে গেল।
এখন দেখা যাচ্ছে, আমার ভাবনা ভুল ছিল।
 
দেখেন, আমাকে বা আপনাকে তুলে নিয়ে যেয়ে কোন কারণ ছাড়াই রাষ্ট্র ৯০ দিন পর্যন্ত আটক রাখতে পারে।
রাষ্ট্রের হাতে এই পরিমাণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
 
মানে আমার বাপ মাকে জানাতে হবে ,থানা থেকে স্বীকার করতে হবে, জাস্ট এই ফর্মালিটিটুকু করলেই কিন্তু আমাকে ৯০ দিন আটকে রাখা যাবে।
কিন্তু এরা এই ফর্মালিটিও করতে রাজি না।
 
এরা চায় আমাকে তুইলা নেবে।
কিন্তু আমার মা বাপ কিচ্ছু জানবে না।
থানা, পুলিশ স্বীকার করবে না।
ওদের কথা শুনলে আমি ব্যাক আসব। না শুনলে আমাকে নাই করে দেওয়া হবে।
যেমন নাই করে দেওয়া হয়েছিল ইলিয়াস আলীকে।
ইলিয়াস আলীকে একেবারে প্রথম দিনেই হত্যা করে শীতলক্ষ্যায় ডুবায় দেওয়া হয়।
অথচ হাসিনা এর ৫ বছর পরেও ইলিয়াস আলীর মেয়ের মাথায় হাত রেখে নাটক করেছে।
এই নাটক আবার আমাদের দেখা লাগবে?
 
ইলিয়াস আলীকে আটকের পর যদি থানা পুলিশকে জাস্ট "স্বীকার" করতে হত যে তারা ইলিয়াস আলীকে আটক করেছে,
তাইলে ইলিয়াস আলীকে আর মরতে হত না।
 
হয়তো ১৭ বছর জেলে থাকতে হত, রিমান্ডে নিয়ে হাত পা ভেঙে দিতে পারত, জেলে নিয়ে ফাঁসি বা যাবজ্জীবনের রায় দিতে পারত।
জাস্ট উনার মেয়েটাকে কোনদিন বাবার জন্য অপেক্ষা করতে হত না। বাবার লাশ বা কবর মেয়েটা দেখতে পারত।
জুলুম তো রাষ্ট্র আমাদের উপর করতেই পারে।
 
আমাদের ধরে নিয়ে জেল দিতে পারে, জামিন না দিতে পারে, ফাঁসিও দিতে পারে।
কিন্তু লাশটাও লুকাইয়া ফেলার জুলুমটা কেন করতে হবে?
 
কেন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে একজন মানুষকে তুলে আনলেও কেউ কিছু স্বীকার করবে না?
আমাদের উপর জুলুম করলেই কি যথেষ্ট হবে না? কেন আমাদের ফ্যামিলিকেও একবার থানায় আর একবার মর্গে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে?
খুব বেশি কিছু আমরা চাইনি।
 
যখন লিখতাম বিএনপি সংস্কার করবে না, তখন এই আপনারাই আমাদের বলতেন, আমরা নাকি বিএনপির বিরোধিতা করার জন্য বিএনপিকে সংস্কার বিরোধী বলি।
এখন কী বলবেন?
 
গুম অধ্যাদেশ খুব আহামরি কোন অধ্যাদেশও না।
তুইলা নিয়ে যাইতেই পারে, সবকিছুই করতে পারে, ইউনূস সরকার জাস্ট আইন করছিল যে তুলে নিয়ে গেলেও অন্তত স্বীকার করতে হবে যে অমুক বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।
এতটুকুও করতে দিবেন না?
 
এত এত প্রাণ, এত এত রক্ত দেওয়ার পরেও একটা দেশের মানুষকে কে তুইলা নিয়া গেল, কেন তুইলা নিয়া গেল, সেটা জানার অধিকারও দিবেন না আপনারা,
আপনারা আর কত রক্ত চান আমাদের কাছে থেকে?