Image description

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরতদের খাবার পানি দিচ্ছিলেন মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ অবস্থায়ই গুলিবিদ্ধ হন। পরে যে মৃত্যু গতিপথ পাল্টে দেয়, জুলাই আন্দোলনের।

 

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুগ্ধ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন; যেখানে আসামি করা হয়, উত্তরার সাবেক এমপি হাবিব হাসান ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ২৬ জনকে। কিন্তু চ্যানেল 24-এর হাতে আসা সেদিন উত্তরায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমানোর মূল পরিকল্পনাকারী এডিসি তরিকুর রহমান ও এসি ফখরুলের কথোপকথনের কিছু ক্ষুদেবার্তা, যেখানে স্পষ্ট সেদিন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন অ্যাকশন মুডে।

মোবাইল ক্ষুদে বার্তায় অতিরিক্ত গোলা বারুদ মজুত, বিক্ষিপ্তভাবে না থেকে সারিবদ্ধভাবে গুলি চালানো, পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে থাকা এবং প্রয়োজনে চায়নিজ রাইফেল ব্যবহারের নির্দেশ দেন এসি ফখরুল। শুধু তাই নয়, যারা আন্দোলনে সাহায্যকারীসহ কাদের গ্রেপ্তার করা হবে, সেই নির্দেশনার পাশাপাশি পরবর্তী পরিকল্পনাও জানানো হতো এসএমএসে।

উত্তরায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাণ্ডবের নেতৃত্বে থাকলেও এক অদৃশ্য কারণে মুগ্ধ হত্যা মামলায় নেই গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, প্রমাণ খুঁজছে ট্রাইব্যুনাল। তিনি বলেন, মুগ্ধর মামলাটি পুরোটাই আমি পর্যালোচনা করে দেখছি। সেখানে ফখরুল নামে একজন সেন্ট-আপ হয়েছে। তরিকুর নামে কেউ যদি সেন্ট-আপ না হয়ে থাকে, এবং যদি তার সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে পরবর্তী তদন্তে ফ্রেশ ফরমাল চার্জ দাখিল করার সুযোগ আছে। 

আসামি না করা হলেও মুদ্ধ হত্যা মামলায় তরিকুর রহমানকে সাক্ষী করেছে প্রসিকিউশন। যেখানে আন্দোলনে থাকার কথা স্বীকার করে অন্যদের জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন তরিকুর।

মুগ্ধ হত্যা মামলার ঘটনার মতো একই ঘটনা ঘটেছে জুলাই আন্দোলনের আরেক আলোচিত শহিদ গোলাম নাফিজের ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রিক্সায় নাফিজের পড়ে থাকা দেহ দেখে হতবাক হয়, পুরো বিশ্ব। সে ঘটনার তদন্ত রিপোর্টে চুড়ান্ত করার সময় আসামি করা হয় ২৩ জন। কিন্তু ভাগ্যবান এক আসামির নাম তৎকালিন ডিসি এইচ এম আজিমুল হক। খোড়াযুক্তি এনে আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তাকেও বাদ দেয়া হয় মামলা থেকে। অথচ, ঘটনার দিনের তার গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সরাসরি হামলার নির্দেশ দেন ডিসি আজিমুল।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তাকে আসামি করার সুযোগ ছিল, কিন্তু করা হয়নি। যার কথা আপনি বলছেন, তার ব্যাপারে আমি একটি ফ্রেশ তদন্তের ব্যবস্থা করেছি। তিনিও যদি জড়িত থাকেন, তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।  

এসএমএস ও ডিজিটাল এভিডেন্স শনাক্ত করে, এসবের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, ট্রাইব্যুনালের আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা। চ্যানেল 24-কে তিনি বলেন, আমার দেখেছি অভিযুক্ত মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা মুগ্ধ হত্যার সময় উত্তরা পূর্ব থানায় অবস্থান করছিলেন। 
 
ট্রাইব্যুনালে এসব আসামি বাদ পড়ার ঘটনায় প্রায় সব চার্জশিট নিয়ে নতুন করে বসেছেন চিফ প্রসিকিউটর। তবে এসব ঘটনায় দায় কি তদন্ত সংস্থার নাকি প্রসিকিউশনের তা নির্ধারন করবে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি।