Image description

ফরিদপুরের সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয় এবং অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্ততপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বর এবং অপরপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বর।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দল নেতা ফারুকের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের কাছ থেকে হেমায়েত মাতুব্বর জমি কেন। ওই জমির সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। জমি পরিমাপের সময় দুই পক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেমায়েত মাতুব্বরের নেতৃত্বে একদল লোক কৃষক দল নেতা ফারুকের সমর্থকদের ১০টি বসতবাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটও করেন বলে অভিযোগ। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী কাগদী বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়টিও ভাঙচুর করা হয়।

 

 

সংঘর্ষে গুরুতর আহতের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বর, আসাদ, পিকুল মাতুব্বর ও লিটন মীরকে উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, ‘আজকে সেখানে কী ঘটেছে আমি কিছুই জানি না এবং আমি কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’

 

সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। একটি পক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।