Image description

গণভোট জাতির দেওয়া ম্যান্ডেট। এটাকে বেমালুম অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই গণভোটকে এবং জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় এবং রায়কে আমরা অমান্য, অগ্রাহ্য করতে পারি না এবং অসম্মান করতে পারি না। এ জন্য তার প্রতিবাদে আমরা সংসদে ওয়াক আউট করছি।’

 

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

 

জুলাই আন্দোলনের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান কোনো সংবিধানের অধীনে হয় না, এটা জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষায় হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই এ পর্যন্ত আমরা এসেছি। যেমন— ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের কোনো প্রভিশন নাই। ৯০ দিনের মধ্যে ইলেকশন করতে হবে, যদি এ রকম সিচুয়েশন হয়, সেটা আমরা মানিনি, মানতে পারিনি। অনেক কিছু আইনের অনেক ব্যত্যয় ঘটিয়েই আমরা এই জায়গায় এসেছি।’

 

বিষয়টি আমাদের দলীয় কোনো বিষয় নয়, এটি জাতির অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আইন জনগণের জন্য, আইনের জন্য জনগণ নয়; সংবিধান জনগণের জন্য, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। এ রকম অতীতে গণভোট হয়েছে, যা সংবিধানে ছিল না, সেই গণভোটও হয়েছে এবং তার ফলও জাতি ভোগ করেছে।’

 

সংবিধান সংস্কারে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে প্রস্তাবটা দেওয়া হয়েছে, আমরা বলেছি এখানে সংস্কার পরিষদ এবং পরিষদের সভা আহ্বানসংক্রান্ত এই নোটিশকে কেন্দ্র করে যদি কোনো সংস্কারবিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়, তবে আমরা এটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার সুযোগ আছে। তবে শর্ত হচ্ছে, সেখানে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে। যদি সমান সংখ্যক সদস্য না থাকে, সংসদের সদস্যদের অনুপাত হারে যদি সেখানে সদস্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সেখান থেকে ভালো কোন আউটকাম আসার সম্ভাবনা নেই।’

 

‘আমরা এই প্রস্তাব নমনীয়ভাবে দেখার পর আইনমন্ত্রী আমাকে মিসকোট করেছেন’ অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি (আইনমন্ত্রী) বলেছেন, এই প্রস্তাব তারা যেভাবে সংবিধান সংশোধনের জন্য দিয়েছেন আমরা সেটা গ্রহণ করেছি। আসলে আমরা সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবে মতামত দিইনি। আমরা বলেছি বিষয়টা ‘সংবিধান সংস্কার’। কাজেই এখানে আশা করি ভুল-বোঝাবুঝি হবে না। কারণ, আমার বক্তব্য স্পষ্ট ছিল, কোনো অস্পষ্টতা ছিল না।’

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এই বিষয়টা ক্লারিফাই করতে চাইলাম যখন, তখন আলোচনার কর্মঘণ্টা শেষ। স্পিকার বললেন যে আজকের আলোচনা এখানে সমাপ্ত হলো। আমি যখন বললাম যে আমাদের তো কৈফিয়ত আছে, সুযোগ দেওয়া হোক, উনি বললেন কালকে এটা সুযোগ দেবেন। তো এইভাবে বিষয়টা আপাতত এসে দাঁড়িয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা বললাম, আমরা সংকটের প্রতিকার করতে এখানে এসেছি, সংকট সৃষ্টি করতে এখানে আসিনি। কিন্তু আমরা খুবই আশাহত হলাম। জাতির দেওয়া এই ম্যান্ডেটটাকে বেমালুম অগ্রাহ্য করা হলো, অপমান করা হলো। আমরা সেই গণভোটকে এবং জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায় এবং রায়কে আমরা অমান্য, অগ্রাহ্য করতে পারি না এবং অসম্মান করতে পারি না। এ জন্য তার প্রতিবাদে আমরা সংসদে ওয়াক আউট করছি।’

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘যেহেতু ৬৮ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছে, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি এই গণরায়কে সম্মান করার জন্য। তাহলে তারাও সম্মানিত হবেন। আমরা বলেছি যে গোটা সংসদ সম্মানিত হবে যদি আমরা সবাই মিলে গণভোটকে সম্মান করতে পারি। আমরা এটাই তাদের কাছে প্রত্যাশা করি। আমরা আশা করি বিষয়টা তারা আন্তরিকভাবে বিবেচনায় নেবেন এবং সংকট নিরসনে সদিচ্ছার পরিচয় দেবেন।’

 

পরিবর্তন যেটা হবে, সেটা সংস্কারে হোক আর সংবিধান সংশোধনে হোক, দুটি শব্দের পার্থক্য অবশ্যই আছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।

 

তারা বিস্মিত ও আহত হয়েছেন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংস্কার হলো যে আইনের বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আপনি হাত দিতে পারবেন। কিন্তু যদি সংশোধন হয় আপনার সেখানে অনেক লিমিটেশনস আছে। এ রকম সংশোধনী প্রস্তাব যখন আদালতে উঠেছে অতীতে আপনারা দেখেছেন যে অনেক প্রস্তাব কিন্তু আদালতে আবার নাকচ হয়ে গেছে। এখানে এই গুরুত্বের তফাতগুলো আছে। এগুলো বুঝেই যেন আমরা গণআকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করি।’