Image description

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে ভারত এখনও কোনো সাড়া দেনি। এমনকি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা এখনও কনস্যুলার অ্যাক্সেস পায়নি। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক চ্যানেলে সমাধানের চেষ্টা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ৭ এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে এই বিষয়টি আলোচনা হতে পারে।

পুলিশ সদরদপ্তরের সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকায় হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি বিভাগ ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষ এখনো কোনো উত্তর দেয়নি। সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চলে এসেছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া খবর পাওয়ার পরপরই আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করি। চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো সাড়া পাইনি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান। যদি ভারত থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়, তবে পুলিশ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসারে তাদের দেশে আনার পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও আলমগীরকে বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে হস্তান্তরের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল দিল্লি সফরে যাবেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে হাদি হত্যা মামলার আসামিদের হস্তান্তর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগীকে ২৩ মার্চ ভারতের এনআইএ হেফাজতে নিয়েছে। আদালতের নির্দেশে সীমান্ত পার হওয়া অপরাধে ফিলিপ সাংমা জেলহাজতে রাখা হয়েছে।

ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করার আগে ফয়সাল সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা প্রচার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ‘আমি হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত নই এবং বর্তমানে দুবাইয়ে আছি।’ তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তিনি ভারতেই ছিলেন।

হাদি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ করার সময়। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সাবেক কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর নির্দেশের তথ্যও পাওয়া গেছে।