ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সিট বরাদ্দের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান ডাকসু নেতারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিভিন্ন সংস্কার ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়
আলোচনার প্রধান বিষয়সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে-
এক, শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সিট বরাদ্দের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে, রিঅ্যাড গ্রহণকারী বা বিশেষ বিবেচনায় অনিয়মিত (৬-৭ সেশন) শিক্ষার্থীদের হলে সিট প্রদান বন্ধ করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে উপাচার্য আশ্বাস প্রদান করেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দুই, ছাত্রীদের হলে সিট সংকটের কারণে আবাসন বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা দূর করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানান। উপাচার্য এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিন, ডাকসুর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মসজিদের আপৎকালীন সংস্কার শেষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করতে সৃষ্ট হওয়া বিদ্যুৎ সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন এবং টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
চার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য ডাকসু কর্তৃক বিসিবির ২ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নের ওপর ফলপ্রসূ আলাপ হয়।
পাঁচ, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়। উপাচার্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
ছয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ২৮৪১ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীনের সহযোগিতায় হল নির্মাণের অগ্রগতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
সাত, ডাকসু কর্তৃক গৃহীত ছাত্রী হলসমূহে অ্যাক্সেস কন্ট্রোল গেট স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সৃষ্ট হওয়া প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করতে হল প্রশাসনকে উপাচার্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আট, শহীদ ওসমান হাদির কবর সংরক্ষণ, নামফলক স্থাপন, কবর বাঁধাই ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ অবশিষ্ট কাজসমূহ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে, “শহীদ ওসমান হাদি হল” নামটি প্রস্তাবিত আকারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব প্রদান করা হয়।
নয়, উচ্চ শিক্ষায় গমনকারী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ই-মেইল ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত অন্যায্য ফি বাতিল করার বিষয়ে দাবি জানানো হয়।
দশ, মোকাররম ভবন, মোতাহার ভবন এবং কার্জন হল কেন্দ্রিক ক্যান্টিন নির্মাণ ও দ্রুত চালুর বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রো-উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কমিটিকে দায়িত্ব প্রদান করেন উপাচার্য মহোদয়।
এগারো, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শিশু সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
বার, মুসা খাঁ মসজিদের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য মৌলিক সমস্যাসমূহ নিয়েও উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও অভিমতগুলো শোনার জন্য উপাচার্যের সাথে দুই ধাপে মতবিনিময় সভা আয়োজন করার পরামর্শ প্রদান করেন। প্রথম দফায় ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাথে এবং দ্বিতীয় দফায় হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ডাকসু নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও দাবিদাওয়া পূরণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপাচার্যও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভায় উপাচার্যের আমন্ত্রণে পরবর্তীতে আরও যুক্ত হোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. সায়মা হক বিদিশা এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।