বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় সিটি কর্পোরেশন থেকে প্ল্যান পাস না নিয়েই ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ কোন প্রকার জায়গা না ছেড়েই জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জনৈক ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে পুরোপুরি সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৪নং ওয়ার্ড সভাপতি ও ফারুক হোসেনের ভায়রা জাকির কাফরার বিরুদ্ধে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি করছেন বলেও অভিযোগ। প্লানবিহীন এই বাড়ি নির্মাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবেশী মো. আমির হোসেন সিটি করপোরেশনে লিখিত অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না রহস্যজনক কারণে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নগরীর কর্নকাঠী এলাকার মৃত শাহাদত আলী মৃধর েছলে মো. ফারুক হোসেন নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের রুপাতলী মৌজার জেএল নং ৫৬, এসএ দাগ-৬৮৮, বিএস-৩০৩৬ নং দাগে কিছু জমি ক্রয় করেন। সম্প্রতি তিনি সিটি কর্পোরেশনের প্ল্যান ব্যতীত ও অনুমতি ছাড়াই ওই জমিতে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। শুধু প্ল্যান ছাড়াই বাড়ি নির্মাণ নয়, পাশে কোনো প্রকার জায়গা না ছেড়ে এবং কোনোরকম ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে ভবন নির্মাণ করছেন তিনি। পরে প্রতিবেশী মো. আমির হোসেন স্থানীয় লোকজন নিয়ে একাধিকবার নিষেধকরাসহ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম ও আইন অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী ভবনের নিয়ম মেনে পিলার স্থাপন করার অনুরোধ করেন। কিন্তু ফারুক হোসেন তাদের দাবি কর্নপাত না করেই নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান এবং উল্টো তার স্থানীয় আত্মীয় ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৪নং ওয়ার্ড সভাপতি জাকির কাফরার প্রভাব খাটিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে মাঝরাত পর্যন্ত ভবনের পিলার ঢালাইসহ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রতিবেশী মৃত আদম আলীর ছেলে মো. আমির হোসেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে সিটি কর্পোরেশনে অভিযোগ দেওয়ার পরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান আমির হোসেন।
তিনি আমার দেশকে বলেন, বিধান অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোনো পাকা স্থাপনা করতে গেলেই সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু তার প্রতিবেশী ফারুক হোসেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কোনোরকম অনুমোদন না নিয়ে তার বসত বাড়ির সীমানায় ভবন নির্মাণ করছেন। এমনকি সেখানে রাখা হয়নি কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এ বিষয়ে তার প্রতিবেশী ফারুক হোসেনকে স্থানীয় লোকজন নিয়ে একাধিকবার নিষেধকরা হলেও তিনি তার তোয়াক্কা করছেন না। এমনকি উল্টো তার এক স্থানীয় আত্মীয়র প্রভাব খাটিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে তিনি। তার অব্যাহত হুমকির কারণে তিনি তার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ফারুক হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভায়রা জাকির কাফরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কাউকে হুমকি-ধামকি দেইনি। তবে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন এসে কোনো অনিয়ম খুঁজে পাননি। বর্তমানে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহি কর্মকর্তা রেজাউল বারী আমার দেশকে বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনে এসেছে। অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।