Image description

মোটরসাইকেলের চালকরা পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ট্যাংক ভরাট করে তেল নিয়ে যান এবং সেই তেল বাইরে প্রতি লিটার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল।

 

তিনি বলেন, ‘এখন রাস্তায় অনেক কম মোটরসাইকেল দেখা যায়। পেট্রোল পাম্প থেকে বের হয়েই বাইরে গিয়ে তেল বিক্রি করে দিচ্ছে। সরকার যদি এখন একটা অভিযান চালায়, দেখা যাবে এমন কোনো বাড়ি নেই যে সে বাড়ির খাটের তলায় বোতলে দুই থেকে পাঁচ লিটার তেল নেই।’

 

সমিতির এই নেতা বলেন, ‘পেট্রোল পাম্প ছাড়া অনেক জায়গায় বেশি দামে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে। পেট্রোল পাম্প থেকে কোনো তেল ড্রামে করে বিক্রি হচ্ছে না। এখন সরকার থেকে প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। তাই অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। ট্যাগ অফিসার যদি সব তেল বিক্রি করে দেন, আমাদের কিছু করার নেই।’

 

দায়িত্ব নিয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, যদি কোনো পেট্রোল পাম্প অন্যায়-অনিয়ম করে থাকে, আমি সরকারকে বলব তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হোক। কোনো পাম্প মালিকের অবৈধভাবে তেল বিক্রির কোনো অভিযোগ যদি আমাদের কাছে আসে, তাহলে সেই মালিককে সমিতি থেকে বহিষ্কার করব এবং তার ডিলারশিপ বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করব। তাদের জন্য অনুরোধের কিছু নেই। তবে একটা পেট্রোল পাম্প কখনোই পুরো খালি করা যায় না, অন্তত ২০০ থেকে ৪০০ লিটার তেল থাকা অবস্থায় বন্ধ করতে হয়। তা না হলে পরে তেল এলে ইয়ার লক হয়ে যায়। পরে পুরো লাইন চালু করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

 

তেল থাকা অবস্থায় কোনো পেট্রোল পাম্প বন্ধ করার সুযোগ নেই জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সরকার থেকে প্রতিটি পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে সরকার নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার নির্ধারণ করবেন কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত তেল দেওয়া হবে এবং কাকে কত লিটার করে দেওয়া হবে। এখানে পাম্প মালিক বা ম্যানেজারের কিছুই করার নেই। আমাদেরও কোনো দায়দায়িত্ব নেই।

 

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পেট্রোল পাম্প ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি বলেও জানান তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আটটি পরামর্শ তুলে ধরেন সাজ্জাদুল ইসলাম কাবুল। সেগুলো হলো—

 

১. পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

২. বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

 

৩. বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

 

৪. ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৫. পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে।

 

৬. উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সকল পাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

 

৭. ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির চেম্বারের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী (যেমন ৪,৫০০ লিটার) তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পরিবহন খরচ অযথা না বাড়ে।

 

৮. সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে এবং অযথা পেট্রোল পাম্পে আক্রমণ ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে তেল মজুত ও জালিয়াতির সুযোগ নেই। অতীতে কোনো পাম্পে অনিয়ম পাওয়া গেলে ডিলারশিপ বাতিলের নজির রয়েছে।