বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) স্পষ্ট বলেছে: “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।” ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর রেফারেন্ডামে প্রায় ৬৮.৩%, অর্থাৎ প্রায় ৪.৭২ কোটি মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। এটা কোনো সাধারণ ভোট ছিলি না, এটা জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট। জনগণ বলেছে: “আমরা জুলাই চার্টার চাই।” এই ম্যান্ডেট অস্বীকার করা মানে অনুচ্ছেদ ৭-এর মূল চেতনাকেই অসম্মান করা। আদালতও বারবার বলেছে — জনগণের ভোট সংবিধানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
বিএনপি নিজেরাই চার্টারে সই করেছে ও “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচার করেছে। ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ বিএনপি জুলাই চার্টারে dissent note স্বত্বেও স্বাক্ষর করেছে। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এ স্পষ্ট “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৭ ই ফেব্রুয়ারি ও পরবর্তী বক্তব্যে বারবার বলেছেন: “আমরা জুলাই চার্টারকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব” এবং “এটা রাজনৈতিক ঐক্যমতের দলিল”। এখন ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙা মানে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং নির্বাচনী আইনের চেতনাবিরোধী।
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত ইশতেহারে বিএনপি স্পষ্ট লিখেছে:
- “জুলাই জাতীয় সনদে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সেভাবেই বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
- “জুলাই ন্যাশনাল চার্টার স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৫, সেটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন করা হবে।”
এই ইশতেহার দেখে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও রাজনৈতিক নৈতিকতা অনুসারে ইশতেহার ভঙ্গ করা নির্বাচনী প্রতারণা। এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় — এটা জনগণের সঙ্গে চুক্তি।
অর্ডিন্যান্সের দুটো অংশ। প্রথম অংশ হচ্ছে নির্বাচন এবং রেফারেন্ডাম কন্ডাক্ট করা। যা শেষ করা শেষ হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ, যেখানে “হ্যাঁ” ভোট এলে সংসদকে কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম কাউন্সিল (CRC) হিসেবে ১৮০ দিনের মধ্যে চার্টার বাস্তবায়ন করা এখনও বাকি আছে। “অর্ডিন্যান্স তো ব্যবহার হয়ে গেছে” বলে দ্বিতীয় অংশ ফেলে দেওয়া আইনত অসম্ভব। জনগণের ৬৮.৩% ভোট ঠিক এই বাস্তবায়নের জন্যই। এই রেফারেন্ডাম এর ফল মেনে নিয়ে অর্ডিন্যান্সের দ্বিতীয় অংশ বাস্তবায়ন করা সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক।
রেফারেন্ডাম হচ্ছে জনগণের সরাসরি কথা। এটা রাজনৈতিকভাবে ও নৈতিকভাবে পুরোপুরি বাধ্যতামূলক। বিএনপি যদি এখন চার্টারের কিছু অংশ বাদ দেয় বা পুরোটাই পাশ কাটায়, তাহলে বিএনপি:
- জনগণের আস্থা চিরতরে হারাবে।
- ভবিষ্যতে ভোটে প্রত্যাখ্যাত হবে।
- ইতিহাস তাদেরকে “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে মনে রাখবে।
- ২০২৪-এর জুলাই গণ-উত্থানের চেতনা ধ্বংস হবে।
�বিএনপির কাছে তিনটা অকাট্য বাধ্যবাধকতা আছে — জনগণের ৬৮.৩% হ্যাঁ ভোট (অনুচ্ছেদ ৭), নিজেদের স্বাক্ষর, এবং নিজেদের ইশতেহারের লিখিত প্রতিশ্রুতি। এগুলোকে অস্বীকার করা মানে সংবিধানের চেতনা, রাজনৈতিক নৈতিকতা ও নির্বাচনী চুক্তি — সবকিছু ভঙ্গ করা।
বিএনপি যদি সত্যিকারের গণতন্ত্র চায়, তাহলে এখনই সংসদকে CRC হিসেবে ঘোষণা করে ১৮০ দিনের মধ্যে চার্টারকে অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুসারে সংবিধানে ঢুকিয়ে দিক। এটাই একমাত্র আইনসম্মত, নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথ। না করলে তারা নিজেরাই নিজেদের রাজনৈতিক কবর খুঁড়বে।
জুলাই চার্টার জনগণের রক্তের ফসল। জনগণের ম্যান্ডেট অটুট রাখুন। জুলাই চার্টার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করুন।