বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একই কর্মস্থলে কেউ ১০, কেউ ১২, আবার কেউ ১৬ বছর একই পদ ধরে রেখেছেন। বদলি করা হলেও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন না। অজানা কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এতে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বেবিচকের শীর্ষ কর্মকর্তারাও। শিগগিরই এসব ব্যক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগ এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে সুবিধাভোগী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ১০ থেকে ২৮ বছর একটানা একই দফতরে কর্মরত আছেন। এর মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মুমিনুল ইসলাম ১০ বছর, ফায়ার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ১২ বছর, শাহ আমানত বিমানবন্দরের এরোড্রাম অফিসার আবু মো. ওমর শরীফ ১৬ বছর, উচ্চমান সহকারী মো. আবদুল করিম ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাফরুল হাসান ২২ বছর, মোশাররফ হোসেন ১৬ বছর, আবুল খায়ের ইবনে আলী ১৯ বছর, হাবিবা আফরোজ ১৯ বছর, সামসুন্নাহার লিজা ১৯ বছর, সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ১৬ বছর, উচ্চমান সহকারী লিটন চন্দ্র সরকার ১০ বছর, প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র অফিসার সুব্রত চন্দ্র দে ১৮ বছর, সিনিয়র অফিসার মো. সেলিম মিয়া ১৮ বছর, ওয়াহিদা ওলিউর ইসলাম ২৬ বছর, পার্সোনেল অফিসার কাজী ফৌজিয়া নাহার ২৬ বছর, উচ্চমান সহকারী জিয়াউর রহমান ১৬ বছর, খালেদা ফেরদৌস ১৬ বছর, উচ্চমান করণিক রুহুল কুদ্দুস ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাশার ১৬ বছর, উচ্চমান সহকারী পিএ টু সদস্য (প্রশাসন) এসএম সায়েজুল হক ১৬ বছর, সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা রুহুল আমীন ১৬ বছর, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীন হোসেন ১৬ বছর, হিসাবরক্ষক ফারজানা আক্তার ১৬ বছর, সুশান্ত কুমার বিশ্বাস হিসাবরক্ষক ১৯ বছর ধরে একই দফতরে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার বদলিও হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয় না। যখনই তাদের বদলির বিষয়ে কথা ওঠে, তখন কোনও না কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) উড়ো চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠি আবার বেবিচকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছে চলে যায়। আর সেই সময় বদলির বিষয়টিও ধামাচাপা পড়ে। এভাবেই তারা বছরের পর বছর একই স্থানে রয়ে গেছেন।
তারা বলেন, প্রশাসনসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার ফলে একটি সিন্ডিকেট করে ফেলেছেন। ফাইল আটকে রাখাসহ নানাবিধ অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তারা। তাদের রোষানলে পড়েনি এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী পাওয়া দুষ্কর। এ কারণে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথাও বলে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার বলেন, টাকা ছাড়া এখানে কোনও ফাইল নড়ে না। প্রশাসন বিভাগে তারা দীর্ঘদিন থাকায় এমন এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, কোনও ধরনের ফাইল নড়াচড়া করতে হলে তাদের টাকা দিলেও ফেলে রাখবে।
জানা গেছে, অতি সম্প্রতি দীর্ঘদিন একই দফতরে কাজ করা কর্মচারীদের বিষয়ে জানিয়ে বেচিকের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন অন্য কর্মচারীরা।
এদিকে এ বিষয়ে বেবিচকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছি। কোনও কর্মকর্তা একই পদে কতদিন কর্মরত রয়েছেন তার একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা দীর্ঘদিন একই পদে রয়েছেন তাদের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হচ্ছে। তাদের ওই সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী একই পদে এত বছর থাকার কথা না। কারা এত বছর ধরে একই পদে আছেন, তার তালিকা করার নির্দেশ দিচ্ছি। তালিকা তৈরির পর সেটি চেয়ারম্যানের কাছে দেবো।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় রাখতেও হয়। তবে এত বছর বিষয়টি আমরা দেখছি।
অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মুমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি ১০ বছর এখানে নেই। ২০২১ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। তার আগে অন্যান্য স্থানে ছিলেন।
অভিযুক্ত সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজা সেলিম বলেন, এগুলো বাড়িয়ে বলে। কর্তৃপক্ষ চাইলে চলে যাবো। আমি আর জোর করে নাই। সব কিছু কর্তৃপক্ষের হাতে।