ফেনী জেলা যুবদলের তৎকালীন জনপ্রিয় নেতা শরিফুল ইসলাম নাসিরের ২৯তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ রোববার (২৯ মার্চ)। ১৯৯৭ সালের ২৯ মার্চ ফেনীর রাজপথে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নাসির। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারীর প্রত্যক্ষ মদদে এই হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন পবিত্র রমজান মাসে ট্রাংক রোডের পিটিআই মোড়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল চলছিল। মিছিলের নেতৃত্বে থাকা নাসির মুহূর্তের মধ্যে ‘স্টিয়ারিং বাহিনী’র ব্রাশ ফায়ারে নিহত হন। এতে বিএনপি নেতা মনোয়ার হোসেন দুলাল ও হারুন মজুমদারসহ শতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। আর মিছিলের অগ্রভাগে থাকায় নাসির বুক ঝাঁজরা হয়ে যায় গুলিতে। মুহূর্তেই সড়কে লুটিয়ে পড়ে প্রাণ হারান জেলা যুবদলের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম নাসির। পরে জেলা যুবদলের তৎকালীন আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন দুলাল বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী মনোয়ার হোসেন দুলাল জানান, মামলার সমস্ত প্রমাণ উপস্থাপন সত্ত্বেও ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক কারণে মামলাটি প্রত্যাহার করে। এর বিরুদ্ধে নাছিরের পরিবার উচ্চ আদালতে আপিল করে এবং মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে রয়েছে।
নাছির হত্যার মূল আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন, কেউ পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। অনেককে নিজের দলের নেতারা খুন করেছেন। ২০১৪ সালের ২০ মে প্রকাশ্যে খুন হন মামলার অন্যতম আসামি একরামুল হক একরাম। এই হত্যাকাণ্ডের দায়ে ফাঁসির আদেশ পেয়েছেন জাহাঙ্গীর আদেল ও আব্দুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুর। আরেক আসামি রতন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন।
মামলার ১৯ আসামির মধ্যে আজহারুল হক আরজু ও স্বপন মালাকার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। অন্যরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বা প্রবাসে পালিয়ে আছেন। বর্তমান আদালতে আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত শাহজাহান সাজু ছাড়াও, সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারি ও জহির উদ্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
নাসিরের পরিবার বারবার বিচার চেয়েও অধরা থেকে গেছে। তার ভাই ও ফেনী পৌর বিএনপির ১৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি যোবায়ের আহম্মদ বলেন, আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না, ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক বলেন, নাসির ছিলেন রাজপথের নির্ভীক সৈনিক। তার হত্যার মাধ্যমে ফেনীর জাতীয়তাবাদী শক্তিকে স্তব্ধ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ২৯ বছরেও খুনিরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়নি। আমরা পুনঃতদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছরেও বিচার না পাওয়া সত্যিই হতাশাজনক। আমরা সরকারের কাছে পুনরুজ্জীবিত করে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাব।