Image description

ঈদের ছুটিতে ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনায়ও যেন টনক নড়েনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। যার দরুণ ঈদের পরে ঢাকা ফিরতে গিয়ে লঞ্চে উঠার সময় পায়ের পাতা হারিয়েছেন কিশোর আব্দুর রহমান গাজী। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার সময় পন্টুন ও লঞ্চের মাঝখানে পা আটকে গিয়ে তার ডান পায়ের পাতা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। এ জন্য ঢাকা-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন নৌপথে লঞ্চগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, অন্য যাত্রীদের মতো আব্দুর রহমান তখন পরিবারের সদস্যদের সাথে লঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। কালাইয়া থেকে আসা ঢাকাগামী লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার সময় যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে আব্দুর রহমানও লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তে লঞ্চটি পন্টুনের গায়ে ঘেঁষে এলে দুইয়ের মাঝে তার পাটি আটকে যায় এবং হাড়-মাংস পিষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, ‘কিশোরটির ডান পায়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়, তাই তাকে দ্রুত বরিশালে পাঠানো হয়েছে।’
দুর্ঘটনার বিষয়ে কালাইয়া বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল মামুন জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে  শনিবার সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। বেলা ১১টার পর ভিড় আরও বেড়ে যায়। এ সুযোগে অনেক লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ উঠেছে। দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী কয়েকটি লঞ্চে ছাদেও যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।