বসন্তের এ সময় বাংলাদেশের প্রকৃতিতে পলাশ ফুল যেভাবে শোভা ছড়িয়েছে, তা থেকে বাদ যায়নি দেশের লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও। চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে রাঙিয়ে তুলেছে রক্তরাঙা পলাশ । মহাসড়কের ডিভাইডারে থাকা গাছের ফুল হালকা বাতাসেই ঝরে পড়ছে রাস্তায়। তাতে মহাসড়ক যেন হয়ে উঠেছে লালগালিচা।
মহাসড়কের প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকা পড়েছে কুমিল্লা জেলায়। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডিভাইডারে থাকা গাছে থোকায় থোকায় ফুটে আছে পলাশ ফুল। গত শুক্রবারের বৃষ্টিতে এর সৌন্দর্য আরো বেড়ে গেছে। বাতাসে ভেসে আসে সুবাস। যানবাহনের জানালা দিয়ে বাইরে চোখ পড়তে নিমিষেই যে কারো মনে প্রশান্তি চলে আসবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ক্যান্টনমেন্ট থেকে চান্দিনা, বুড়িচং, দাউদকান্দি এবং চৌদ্দগ্রাম এলাকায় গতকাল রোববার দেখা যায়, অনেকেই গাড়ি থামিয়ে ফুলের ছবি তুলছেন, আবার অনেকেই বানাচ্ছেন ভিডিও। আশপাশের এলাকা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকেই এসেছেন পলাশের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তিনি পড়ছেন কুমিল্লার সরকারি কলেজে। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমি প্রতিদিন এখান থেকে কুমিল্লা শহরে যাই । যাওয়ার সময় দেখি অনেকেই ফুল গাছের দিকে তাকিয়ে আছে, ছবি তুলছে। এই ফুলগুলো পুরো এলাকার ছবিই পাল্টে দিয়েছে।
পরিবার নিয়ে প্রাইভেট কারে ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাচ্ছিলেন আমির হোসেন। চান্দিনা এলাকায় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি আমার দেশকে বলেন, কড়া রোদে পলাশ ফুল দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। ছেলের আবদারে ছবি উঠাতে নামলাম।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার থেকে ঢাকায় নিয়মিত চলাচলকারী এশিয়া লাইন বাসের চালক সোহেল রানা বলেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার ফাঁক দিয়ে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন ।
কুমিল্লা জেলা হাইওয়ে পুলিশের এসপি শাহীনুর আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে পলাশ ফুল গাছগুলো । এগুলো যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মহাসড়কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কেও এ ধরনের গাছ লাগানো দরকার।
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামসুল আরেফিন বলেন, পলাশ ফুল শোভাময় গাছ। ফলে রাস্তার পাশে ও বাগানে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লাগানো হয়। বসন্তকালে পাতা ঝরে গিয়ে গাছে উজ্জ্বল কমলা-লাল ফুল ফোটে। ফুলের আকৃতি অনেকটা টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো।
কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, মহাসড়কে গাড়ির একপাশের আলো যেন অন্যপাশে এসে না পড়ে সেজন্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। এতে দুর্ঘটনা এড়ানোও সম্ভব হয়েছে। এখন সেসব গাছে ফুল ফুটছে, যা দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যাত্রীদের।