আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরোর চেয়ারম্যান মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী বলেছেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০ লাখ আদেল সুপুরুষ লাগবে যারা একাধিক বিবাহ করবে, অন্যথায় নারীদের হক নষ্ট করার গুনাহগার হবে। কারণ বাংলাদেশে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ নারী রয়েছে, মাসনা বিবাহ ছাড়া তারা কখনোই ঘর পাবে না।’
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ দীনদার বড় স্ত্রী তৈরি হতে হবে, যারা স্বামীর একাধিক বিবাহকে মন মেনে নিবেন এবং কমপক্ষে ১০ লাখ এমন আদেল সুপুরুষ লাগবে যারা একাধিক বিবাহ করবে, অন্যথায় সকলেই নারীদের হক নষ্ট করার গুনাহগার হবে। আল্লাহ তা’আলা সকলকে বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন।
এর আগে এক পোস্টে নিজের চার স্ত্রীর স্মৃতিচারণ করে তিনি আরেকটি পোস্ট করেন। সেখানে মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী লিখেন, ‘বড় স্ত্রীকে নিয়ে ৪র্থ স্ত্রীর বাড়িতে বেড়াতে এলাম। এখানকার শ্বশুর-শাশুড়ি ও পরিবারের ভালোবাসা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। নিজের মেয়ের সতিনকেও যে এত আন্তরিকভাবে আপন করে নেওয়া যায় তা এই দীনদার আলেম পরিবার থেকে নতুন করে শিখলাম।’
‘কারাগার থেকে মুক্তির পর নিয়ত করেছিলাম—সর্বপ্রথম চার স্ত্রীকে নিয়ে চার শ্বশুরবাড়ি সফর করবো। এরপরই শুরু করবো কর্মজীবনের সব ব্যস্ততা, ইনশাআল্লাহ। ৪-৫ দিনের মধ্যেই সফরটি শেষ করার পরিকল্পনা। আজ ১ম ও ৪র্থ স্ত্রীকে নিয়ে নাটোর ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছি। গাড়িতে কোনো গায়রে মাহরাম নেই। পুরো পথজুড়ে দ্বীনি আলোচনা হলো। অনেক হাসির গল্প হলো।’
‘অনেক বড় লোক ভাই গাড়িতে অবৈধ গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কেউ দুই তিনটা পতিতা ভাড়া করে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর আমি বেড়াচ্ছি, সাথে আমার দুইজন হালাল স্ত্রী। অনুভূতিটাই আলাদা। হালালেই প্রশান্তি। সিরাজগঞ্জের একটি হোটেল থেকে দুইজন মিলেই পছন্দ করে দিলো। ২ সতিন মিলে পছন্দ করে দুই পরিবারের জন্য বাজার করছে। সুবহানাল্লাহ, কী চমৎকার মুহূর্ত।’
‘পুরো রাস্তা ২ মা মিলে আমার দুই সন্তানকে কলে নিয়ে আসছে। দৃশ্যটি দেখছি আর অবাক হচ্ছি বাংলার জমিনে এটাও সম্ভব? এরপর আরো হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য: ৪র্থ স্ত্রীর পরিবারের দাওয়াতে ১ম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তাদের বাসায় পৌঁছালাম। পৌঁছানোর পর আমার বড় স্ত্রীর সন্তানদেরকে যে ভালোবাসা, আদর আর স্নেহে ভরিয়ে দিলেন শ্বশুর ও শ্যালকরা তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’
‘ঘরে ঢুকেই দেখি, ৪র্থ শাশুড়ি তার মেয়ের সতিন (আমার বড় স্ত্রী)কে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত। তার জন্য বিশেষ রান্না, যত্ন, সবকিছুতেই ছিল আন্তরিকতার ছাপ। শ্বশুর নিজ হাতে ডাব কেটে খাওয়ালেন, শিশুদের কোলে নিয়ে আদর করলেন। অসাধারণ এক পরিবেশ। সত্যিই, এটাই ইসলামের সৌন্দর্য। আল্লাহর বিধানকে ভালোবেসে গ্রহণ করলে সম্পর্কগুলো কতটা সুন্দর, স্বচ্ছ ও প্রশান্তিময় হয়, তা আজ নতুন করে অনুভব করলাম। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।’
‘আরও মজার বিষয় হলো, এখন ৪র্থ স্ত্রীকে নিয়ে ১ম শ্বশুরবাড়িতেও যেতে হবে! বড় শাশুড়ি নিজেই জোর দিয়ে বলেছেন, নতুন স্ত্রীকে অবশ্যই নিয়ে যেতে। ইনশাআল্লাহ, কিছুক্ষণের মধ্যেই রওয়ানা হবো। এটাই বাস্তব ইসলাম। এটাই সৌন্দর্য, যেখানে হিংসা নয়, আছে ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতা। এটাই ইসলামি তাহজিব ও কালচার। বাংলার জমিনে এখনো এমন অসংখ্য শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন, যারা অন্তর থেকে আল্লাহর বিধানকে ভালোবাসেন। শুধু খুঁজে নিতে হবে সঠিক মানুষগুলোকে। হালালেই বরকত, হালালেই নিরাপত্তা—এটাই আমাদের ইসলামী সংস্কৃতি।’