Image description

দীর্ঘ এক দশকের নীরবতার পর পাবনায় আবারো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা দেখাচ্ছে একটি সশস্ত্র বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন।

সংগঠনটির নাম ‘লাল পতাকা’। এটি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একটি ভিন্ন অংশ। গত ২১ মার্চ রাতে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারিং ও দেয়াললিখনের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়।

জানা গেছে, জেলার আতাইকুলা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে রাতের আঁধারে পোস্টার লাগানো হয়। এতে লেখা ছিল ‘দুনিয়ার সর্বহারা এক হও’, ‘ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান, সমাজতন্ত্র কায়েম করো’, ‘লাঙ্গল যার জমি তার’, ‘বিদেশী কাপড় বন্ধ করো, তাঁতশিল্প রক্ষা করো’। বিশ্লেষকদের মতে প্রচারণার ভাষা বামপন্থী চরমপন্থার। এক সময় ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে এ ঘটনা নতুন ভীতি সৃষ্টি করেছে। অবশ্য ঘটনার সত্যাসত্য নিয়ে এ সংগঠন থেকে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পোস্টারিংয়ের বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে কারা এতে জড়িত তা শনাক্ত করার জন্য।

পাবনায় সাম্প্রতিক পোস্টারিং ও দেয়াললিখনের ঘটনাগুলোকে সরলভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। এ-জাতীয় সংগঠনের অতীতের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে বলা যায়, এ ধরনের তৎপরতা সাধারণত কোনো গভীরতর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তৎপরতা তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রথমত, কোনো সংগঠন নীরবতা ভেঙে ধীরে ধীরে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যাকে ‘লো-লেভেল রিগ্রুপিং’ বলা হয়। দ্বিতীয়ত, সংগঠনের মূল কাঠামো না থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু পুরনো সদস্য বা সমর্থক নিজেদের উদ্যোগে এ ধরনের প্রচারণা চালাতে পারে। তৃতীয়ত, এটি সম্পূর্ণ অনুকরণমূলক বা বিভ্রান্তিমূলক আচরণ বা কর্মকাণ্ডও হতে পারে, যেখানে অন্য কোনো পক্ষ পুরনো নাম ব্যবহার করে ভীতি তৈরি করতে চাইছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র তৎপরতার খবর পাওয়া যায়নি, প্রকাশ্য কোনো সংগঠন বা জনসমাবেশের অস্তিত্বও দেখা যায়নি। পুরো ঘটনাটি সীমাবদ্ধ রয়েছে মূলত রাতের আঁধারে পোস্টারিংয়ের মধ্যে।

কুষ্টিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক হাসান আলী বিষয়টিকে একেবারেই সাধারণভাবে দেখার পক্ষে নন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ অঞ্চলটি আগে থেকেই চরমপন্থী অধ্যুষিত এবং যেভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, তাতে অতীতে এ রকম ঘটনার নজির রয়েছে—তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক সময়ের সক্রিয় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একটি অংশ ‘লাল পতাকা’ নামে পরিচিতি পায়। বিশেষ করে ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বেশ দৃশ্যমান ছিল।

তাদের তৎপরতার ধরন ছিল বহুমাত্রিক। চাঁদাবাজি, খুন, গ্রামভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ‘শ্রেণী সংগ্রাম’-এর নামে সহিংসতা। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষও নিয়মিত ঘটনা ছিল। এ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শক্তি কমে আসে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অভিযান, ব্যাপক গ্রেফতার ও তথাকথিত ক্রসফায়ারের ঘটনা এবং অনেক সদস্যের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের ফলে সংগঠনটি কার্যত ভেঙে পড়ে। এর ফলেই গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল।

বিশ্লেষকরা জানান, সাম্প্রতিক পোস্টারগুলোর ভাষা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে ‘সর্বহারা এক হও’, ‘ভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান’ এবং ‘সমাজতন্ত্র কায়েম করো’-এর মতো স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো মূলত মাওবাদী বা বামপন্থী চরমপন্থী রাজনীতির ঐতিহ্যগত প্রচারণার ভাষা। স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য বা অসন্তোষ, রাজনৈতিক হতাশা বা শূন্যতা, কিংবা পুরনো নেটওয়ার্কের আংশিক পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা—এসবই এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলনও হতে পারে। অতীতের সহিংস অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সহিংস ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রাখছে। অন্যদিকে প্রশাসন এরই মধ্যে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতিকে মাঝারি মাত্রার উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ বিষয়টি নজরদারির দাবি রাখে, কিন্তু এখনো নিশ্চিতভাবে বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নেয়নি।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, কোনো চরমপন্থী সংগঠন পুনরায় শক্তিশালী হতে শুরু করলে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করে। প্রথমে পোস্টারিং বা লিফলেট বিতরণ, এরপর গোপন বৈঠক ও সংগঠন গঠন, তারপর চাঁদা দাবি এবং সর্বশেষে টার্গেট কিলিং বা ভয় প্রদর্শনের মতো সহিংস কর্মকাণ্ড দেখা যায়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব লক্ষণের কোনো শক্ত প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পাবনার সাম্প্রতিক ঘটনাটি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত, তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ সংগঠিত পুনরুত্থানের প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। এটি ছোট পরিসরের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা অথবা বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ, যা এরই মধ্যে প্রশাসনের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের তৎপরতা বাড়ে কিনা এবং তার সঙ্গে সহিংসতার কোনো যোগসূত্র তৈরি হয় কিনা তার ওপর।

চরমপন্থীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীমউদ্দিন স্বীকার করেন যে কুষ্টিয়া অঞ্চলটি আগে থেকেই চরমপন্থী অধ্যুষিত। তবে তিনি বলেন, ‘তার জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে তেমন কোনো তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও পাবনার ঘটনার পর তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টির ওপর বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী চরমপন্থার প্রভাবের মাঠ হিসেবে পরিচিত। পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) উদ্ভব হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে। মূল লক্ষ্য ছিল শ্রেণী সংগ্রাম, জমির মালিকানা, এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিপ্লব।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ করে পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা এক সময় বাংলাদেশের চরমপন্থী তৎপরতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। স্বাধীনতার পরপরই রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে কিছু বামপন্থী সশস্ত্র সংগঠনের উত্থান ঘটে। শুরুতে তাদের আদর্শিক অবস্থান ছিল শ্রেণী সংগ্রাম ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে কেন্দ্র করে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সংগঠনের অনেকেই সহিংসতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

১৯৮০-৯০-এর দশকে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘রেড জোন’ গড়ে তোলে। এরপর মূল দল বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে ‘লাল পতাকা’, ‘জনযুদ্ধ’ ইত্যাদি নামে বিভক্তিরও সূত্রপাত হয়। এসব সংগঠন ধীরে ধীরে গ্রামভিত্তিক শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকা তখন কার্যত তাদের প্রভাবাধীন হয়ে পড়ে। তারা স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিভক্ত বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়টাকে এ অঞ্চলে চরমপন্থী সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, গুম এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ী, কৃষক এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হন। অনেক এলাকায় মানুষ দিনের আলোতেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে কিছু অঞ্চলে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালের পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষ করে র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে চরমপন্থী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার বা নিহত হন। তাদের অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা হয় এবং নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়া হয়। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক শক্তি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।

২০১০ সালের পর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সরকারের উদ্যোগে অনেক চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। ফলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অঞ্চলগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়কে তুলনামূলকভাবে নীরবতার সময় বলা যায়। এ সময়ে বড় ধরনের কোনো সংগঠিত চরমপন্থী তৎপরতা চোখে পড়ে না। মানুষ স্বস্তি ফিরে পায় এবং দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল স্থিতিশীলতার পথে এগোয়। ২০২৩ থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ইঙ্গিত দেখা গেছে—পোস্টারিং ও গোপন প্রচারণা। তবে সশস্ত্র হামলা, নেতৃত্বের প্রকাশ বা চাঁদাবাজির প্রমাণ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে পাবনায় পোস্টারিংয়ের মতো বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মাধ্যমে আবারো পুরনো নামগুলো আলোচনায় আসছে। তাদের দেয়া স্লোগানগুলো অতীতের চরমপন্থী আদর্শেরই প্রতিফলন। এ ধরনের পোস্টার সাধারণত কোনো সংগঠনের প্রাথমিক প্রচারণামূলক তৎপরতার ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমান বাস্তবতায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংগঠিত তৎপরতা, সশস্ত্র উপস্থিতি বা সহিংস ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ পুনরুত্থান বলা না গেলেও এটি একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যায়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যদি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে—যেমন নিয়মিত পোস্টারিং, গোপন বৈঠক, চাঁদাবাজি বা ছোটখাটো সহিংসতা, তাহলে সেটি বড় আকার ধারণ করতে পারে।

পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহির জানান, যেভাবেই ঘটনাটি ঘটানো হয়ে থাকুক না কেন, এটি যে একটি পরিকল্পিত ঘটনা, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা বের করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য এবং পুলিশ সে অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’