ডিজেল তেলের তীব্র সংকটে নরসিংদীর কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সেচ দিতে না পেরে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল এখন হুমকির মুখে। মাঠ ফেটে যাচ্ছে পানির অভাবে, আর কৃষকের চোখে-মুখে স্পষ্ট হতাশা ও দুশ্চিন্তার ছাপ।
সরেজমিনে মনোহরদী, চরমান্দালীয়া ও শিবপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি কৃষক একই সমস্যায় জর্জরিত। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক কানি জমিতে বোরো ধান চাষে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। বিপরীতে ফলন হয় ২৫ থেকে ২৬ মণ ধান। কিন্তু ডিজেলের অভাবে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় সেই সম্ভাবনাময় ফলন এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করে জানান, ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অতিরিক্ত ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে অসহনীয় বোঝা।
কৃষকদের ভাষ্য, “ডিজেল না পেলে আমরা সেচ দিতে পারি না। জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আমরা কোথায় যাবো?”
বর্তমানে শুধু বোরো ধানই নয়, সবজি ক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারায় ফসলের জমি ফেটে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে তেল নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে কৃষক বাঁচবে না, আর কৃষক না বাঁচলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।
শেষ কথা একটাই কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এখনই সময় কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর।
শীর্ষনিউজ