রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদল নেতা সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যায় কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া ২ শুটারকে বিদেশী রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার রুপনগর থানাধীন ইস্টার্ণ হাউজিং এলাকা থেকে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শুটার মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং উত্তরা ১৮ সেক্টর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০) কে গ্রেপ্তার করে। র্যাব জানায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। শুক্রবার মিরপুরের পাইকপাড়া র্যাব- ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।
তিনি বলেন, গত ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২, ব্লক-বি, বিক্রমপুর স্যানেটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পিস্তল দিয়ে বুকে ও পিঠে অতর্কিত গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া (৫০)’কে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার উপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে এবং এতে একজন রিক্সা চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরপরই র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং আনুষঙ্গিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শুটাররা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলো।
মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, এ ঘটনায় পলাতক শুটারদের ধরার জন্য র্যাব-৪ ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, পলাতক শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ত্যাগ করার জন্য ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরীর রুপনগর থানাধীন ইস্টার্ণ হাউজিং এলাকা হতে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী অন্যতম শুটার মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং উত্তরা ১৮ সেক্টর দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০) কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি লোপনের দেওয়া তথ্যমতে তার বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১টি বিদেশী রিভলবার ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উক্ত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিজেদের শনাক্ত করেছে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে। এছাড়াও তারা জানায় , এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যাতে বড় অংকের অর্থের লেনদেন হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা পেশাদার শুটার এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া গত ১৮ নভেম্বর চাঞ্চল্যকর গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও ১৮টি মামলার আসামি সন্ত্রাসী মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজন (৩৫)’কে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-৪। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।