বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, বিএনপি একমাস আগে যা বলে দুই মাস পর চোখের সামনে ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরিয়ে বলে। ঐকমত্য কমিশনে সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকার পরিবর্তন নয় রাষ্ট্র পরিচালনা মুখ্য বিষয় হবে। জুলাই জাতীয় সনদ লিখিত হলো, বাস্তবায়নের আদেশ হলো। যেই নির্বাচন হয়ে গেল, দুই তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে তারা প্রথম দিনেই এসে ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরে গেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারে জেলা পৌর জামায়াতের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র গত ৫৪ বছরে অনেক উত্থান-পতনে গেছে। দেশে রাষ্ট্রপতি শাসন, মিলিটারি শাসন দেখেছি, সংবিধানকে বার বার স্থগিত করতে দেখেছি। এ দেশে রাষ্ট্রপতিকে আততায়ীর হাতে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। স্বৈরাচারকে বিভিন্ন সময় হঠানোর অভিজ্ঞতাও আছে। গত ৫৪ বছর ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাস্তবতা দেখেছি। চোখের সামনে স্বৈরাচারকে আন্দোলন করে হঠিয়ে আবার কিছুদিন পর নিজেরাই স্বৈরাচার হয়ে যায়। যে লাউ সেই কদু। এটা কেমন চরিত্র বুঝি না। যে দেশের রাজনৈতিক নেতার চরিত্র বিশ্বাসযোগ্য হয় না, সেই দেশে তারা সুশাসন দিতে পারে না। আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছি। সরকারকে প্রতিটি কাজের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। আগের মতো ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেশ চালানো যাবে না।
গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, দেশের ৬৯% মানুষ হ্যাঁ ভোট দিল। বিএনপিও হ্যাঁ ভোট চাইল। কিন্তু তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে গেল। এমন করা হলো কেন? এসব এখন গবেষণার বিষয়। অনেকে তাদের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে ঠাট্টা করে। ব্যঙ্গাত্মক কমেন্ট করে মানুষ। কিভাবে সহ্য করে, তাদের লজ্জাবোধ নাই। তবুও তারা বেটাগিরি দেখায়। আমি হলে পদত্যাগ করে চলে যেতাম।
শিশির মনির বলেন, জুলাই সনদে দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট হবে। ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকবে, স্বাধীন পুলিশ কমিশন হবে। কিছুই হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জের হাওড় নিয়ে তিনি বলেন, দিরাই হাওড় ঘুরে দেখেছি ১০ থেকে ১২টা হাওড়ে হাজার হাজার একর পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে হাওড় রক্ষা করা যাবে না। অল্প বৃষ্টিতে হাওড় তলিয়ে যায়। এজন্য নদী, খাল খনন করতে হবে।
পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল কুদ্দুছ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুল হক মাসুক, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেম্বার গোলাম আহমেদ (সৈনিক), সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, জসীম উদ্দিন প্রমুখ।