ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করল এক ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন। আধুনিকতার যুগে যখন বিয়ের শোভাযাত্রা মানেই মোটরগাড়ির বহর, সেখানে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে গরুর গাড়ির বহর নিয়ে বরযাত্রার আয়োজন করেছে একটি পরিবার।
জানা যায়, ঈদের তৃতীয় দিনে কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াসলুয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গে পাশের চাপরাইল গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। বর ও কনের বাড়ির দূরত্ব মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের পথ হলেও, সেই স্বল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেই বেছে নেওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির বহর।
সোমবার দুপুরে সাজানো-গোছানো সাতটি গরুর গাড়িতে করে বরসহ বরযাত্রীরা কনের বাড়িতে পৌঁছেন। রঙিন কাপড়, ফুল ও গ্রামীণ অলংকরণে সাজানো এসব গাড়ি দেখতে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ সব বয়সি মানুষের ভিড় জমে। এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই ছিল নতুন, আবার কারও কাছে ফিরে পাওয়া পুরোনো দিনের স্মৃতি।
বর মেহেদী হাসান জানান, আমাদের বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় আমরা ভেবেছি বিয়েটাকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে তোলা যায়। সেই ভাবনা থেকেই গরুর গাড়ির এই আয়োজন। এটি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখারও একটি ছোট্ট চেষ্টা।
স্থানীয় যুবক তুষার আহম্মেদ বলেন, বড়দের মুখে গরুর গাড়িতে বিয়ের গল্প শুনেছি, কিন্তু সরাসরি কখনো দেখিনি। আজ নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে। পুরো পরিবেশটাই ছিল উৎসবমুখর।
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা নাইমুর রহমান সবুজের ভাষায়, মানুষের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বিয়েটি শুধু দুই পরিবারের মিলন নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতিরও পুনর্জাগরণ। গরুর গাড়ির বহর আজকের প্রজন্মকে অতীতের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও তারা মনে করেন।