“রাফার আব্বু ওঠো… রাফার কী হইবো, আয়ানার কী হইবো, আমার কী হইবো! তুমি না থাকলে তোমার মা আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে… তুমি তো কিছুই বলে গেলে না!” ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামীর নিথর দেহের অপেক্ষায় এভাবে বুকফাটা আহাজারি করছিলেন রুনা আক্তার। তার এই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজন ও দর্শনার্থীরা।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে রওয়ানা হয়েছিলেন ঢাকার বাংলামোটরের ব্যবসায়ী মোরশেদ হোসেন (৪০)। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি, পথিমধ্যে ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে তিনি ফিরলেন লাশ হয়ে।
রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অ্যাম্বুলেন্স ও একটি বাসের সংঘর্ষে সড়কে জটলার সৃষ্টি হয়। সেই জটলার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি দ্রুতগামী বাস উঠে পড়লে ঘটনাস্থলে মোরশেদসহ তিনজন নিহত হন।
পারিবারিক সূত্রে জানায়, ছোট মেয়ের দীর্ঘদিনের আবদার ছিল কক্সবাজারে সমুদ্র দেখবে। বাবা মোরশেদ মেয়েকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সমুদ্র দেখানোর। মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে ও ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দিতে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণ থেকে গেল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন মোরশেদ। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি বাস এসে জটলার ওপর উঠে পড়ে। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্ত্রীর আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে চারপাশে। স্বামীর লাশ মর্গে, আর বাইরে স্ত্রীর বুকভাঙা কান্না; এ দৃশ্য নাড়া দেয় উপস্থিত সবাইকে।
মোরশেদ হোসেন ঢাকার বাংলামোটর এলাকার ফরহাদ অটো মার্কেটের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘মোরশেদ মটরস’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মোরশেদের দীর্ঘদিনের বন্ধু মো. সুমন বলেন, ‘‘এভাবে মোরশেদের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। তার ছোট দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে কীভাবে বাঁচবে সেটাই ভাবাচ্ছে এখন। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ফেনীতে এসেছি। লাশ নিয়ে ঢাকায় গিয়ে গোসল ও জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি আরও জানান, মাগরিবের পর ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে লাশ রংপুরের হারাগাছ থানায় তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
শীর্ষনিউজ