কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া আহতদের মধ্যে যারা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।
আজ রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কালের কণ্ঠকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেল।
এর আগে দুপুরে পদুয়ার বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত স্থান পরিদর্শন ও বিকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে এসে এমন ঘোষণা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, নিহতদের লাশ সম্মানের সঙ্গে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা করা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্সগুলো নিহতদের স্বজনদের নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে লাশ পৌঁছে দেবে। এ ছাড়া যারা আহত হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ যদি উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাদেরকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেওয়া শেষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা ছিল, যাদের অবহেলার কারণে এতগুলো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে শুধু বরখাস্ত করলেই হবে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে রেলক্রসিংয়ে যারা গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করবে তারা যেন এমন অবহেলা না করেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।