জ্বর, নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫০ রোগী ভর্তি আছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এসব রোগী ও স্বজনদের ঈদ কেটেছে হাসপাতালেই।
শনিবার (২১ মার্চ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঈদ উদযাপন করছে শিশু রোগী আব্দুল্লার মা স্বপ্না বেগম, হোসেনের মা নুরজাহান বেগম, সারার মা সুবর্না বেগম, রোগী পীরামনি, হানিফ, আয়শা, রাফসান, মনিবালা, শিরিনাসহ প্রায় ৫০ জন রোগী ঈদ উদযাপন করছে হাসপাতালে।
হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রায় ৫০ জন রোগী জ্বর, নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি আছেন হাসপাতালে। সঙ্গে রয়েছেন রোগীর স্বজনও। রোগী ও রোগীর স্বজনদের সেমাই, রুটি, ডিম, পোলাও, মুরগির রোস্ট, দই, সবজি, সালাদসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোগী হানিফের মা নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হইছে। চিকিৎসা চলছে। আগের থেকে একটু ভালো। ঈদের দিনও ডাক্তাররা খুব আন্তরিক।’
হোসেনের মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘আমার ভাগ্য খারাপ। বাচ্চা অসুস্থ। এজন্য হাসপাতালে ঈদের দিনও আছি। তবে ঈদ আনন্দ আমরা এখানে সবাই উপভোগ করছি।’
নুসাইফার মা নুসরাত বেগম বলেন, ‘আমাদের ঈদই কাটছে আজকে হাসপাতালে। স্বজনেরা কাছে নেই। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য রোগীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছি। সকালে হাসপাতাল থেকে দেওয়া সেমাই, পাউরুটি, কলা, রোস্ট, পোলাউ, ডিমসহ বিভিন্ন খাবার খেয়েছি।’
হাসপাতালে ভর্তি রোগী সারার মা সুবর্ণা আক্তার বলেন, আমার বাড়ি দক্ষিণ নলুয়া গ্রামে। ছেলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত। শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। আমার সঙ্গে আমার মা-ও আছেন। স্বামী মাহবুব আলম বিদেশে থাকেন। ছেলের অসুস্থতার জন্য স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে পারিনি। এখানেই আজ ঈদ করেছি। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা খুবই আন্তরিক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রাজিব কিশোর বণিক বলেন, হাসপাতালে আজ ঈদের দিনে রোগী, রোগীদের স্বজন ও চিকিৎসক-নার্স সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছে। হাসপাতালে সবাই মিলে ঈদ উদযাপন করেছে। আমরা চিকিৎসকরা রুটিনমাফিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রায়হান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের সাধ্যের মধ্যে রোগী ও স্বজনদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। চিকিৎসার কোনো ত্রুটি নাই। চিকিৎসক ও নার্সরা দায়িত্ব নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।