Image description

ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে আসাছিলেন মো. মোস্তাফিজুর। লঞ্চে চেতনানাশক খাইয়ে তার সঙ্গে থাকা টাকাপয়সা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোস্তাফিজুর।

 

শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে মোস্তাফিজুরের মৃত্যু হয়। পেশায় একজন ট্রাকচালক মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রামের বাসিন্দা। গতকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসার পথে লঞ্চে তাকে পানির সঙ্গে চেতনানাশক পান করায় দুর্বৃত্তরা। তবে কোন লঞ্চে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানা যায়নি।

 

মোস্তাফিজুরের দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন বেগম বলেন, আমাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলে এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

 

জেসমিন বেগম বলেন, ঘাটে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন- মোস্তাফিজুরের ফোন থেকে এমন খবর পেয়ে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে কে বা কারা লঞ্চে তাকে চেতনানাশক খাইয়েছে তা জানেন না।

 

এ বিষয়ে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. শামসুল আলম বলেন, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ এবং অচেতন অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে, তবে আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

 

ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমিরণ মন্ডল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোস্তাফিজুরকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা যাবে।