একদিকে সবাই যখন ব্যস্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপনে, অন্যদিকে তাদের সেই ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরিবার ছেড়ে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চতের পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে কাজ করছেন তারা।
সড়কে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, ছুটি না পাওয়ার আক্ষেপ আছে, আবার মানুষের ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে পারছেন বলে তৃপ্তিও আছে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই ঈদের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছেন তারা।
শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এমন অনুভূতির কথা জানা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণসহ গাড়ির জটলা ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ও বিনোদনকেন্দ্রের আশপাশে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের চিত্র দেখা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র বলছে, ঈদ উদযাপনে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জায়গাতেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করছেন। ফলে অধিকাংশ সদস্যই ঈদের ছুটি পাননি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির ইচ্ছা থাকলেও দায়িত্বের কাছে বাধা পড়েছে তাদের জীবন।
দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা বলছেন, ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে বের হলেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নামাজের সুযোগ পাননি তারা। ভোর ৬টায় এসে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে এলেও রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকায় সেই ভাগ্য হয়নি। সাধারণ মানুষের ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করতে পেরেই তাদের চোখেমুখে সন্তুষ্টির ছাপ।
তারা জানান, দ্বায়িত্ব পালনের মধ্যেও বাড়িতে থাকা সন্তানের মুখ ভেসে ওঠে, মনে আশা জাগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের। কিন্তু দায়িত্বের কাছে সবকিছুই হার মানে।

দুপুরে রাজধানীর গণভবন সিগন্যালে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্য মো. সাকিল বলেন, প্রতিদিনের মতো আজও ভোর ৬টায় ডিউটিতে এসেছি। আজ অবশ্য গোসল করে এসেছি যেন ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে ডিউটির চাপ থাকার কারণে নামাজটা পড়তে পারিনি। হালকা নাস্তা করেছি, ২টায় ডিউটি শেষ হয়েছে বাসায় গিয়ে কিছু খাবো। ঈদের দিন অর্থাৎ ছুটির দিনে চাপ কম থাকার কথা থাকলেও আজ চাপ বেশি। যেহেতু আমাদের অনেক সহকর্মী ছুটিতে আছেন, সেজন্য আবার রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত ডিউটিতে করতে হবে।
তিনি বলেন, ঈদে বাড়িতে না যাওয়ার একটা মন খারাপ থাকে, তবে যখন চাকরি নতুন অবস্থায় ছিল তখন বেশি খারাপ লাগতো। দীর্ঘদিন চাকরি করার ফলে এখন এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদে আমাদের দায়িত্বটা আরও বেশি পালন করতে হয়। এখন আমাদের ঈদ আনন্দ বলতে মানুষজন যেন নিরাপদে তার পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করতে পারে, সেটাই আমাদের ঈদ আনন্দ।
‘তবে খারাপ যে লাগে না একেবারে তা না। বাড়িতে আমার একটা ছোট মেয়ে আছে, তার সঙ্গে যদি ঈদ উদযাপন করতে পারতাম তাহলে আরও একটু ভালো লাগতো, মেয়েটার জন্য খারাপ লাগে। আমার যেমন খারাপ লাগা কাজ করছে, মেয়েটাও তেমন আশায় ছিল যে বাবা এলে বাবার সঙ্গে ঈদ করবে।’

একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সদস্য মো. সোহাগ। তিনি বলেন, ভোর ৬টায় এসেছি ডিউটিতে। দুপুর ২টায় ডিউটি শেষ হয়েছে, আবার রাত ১০টায় আসবো, টানা রাত ২টা পর্যন্ত ডিউটি করে বাসায় ফিরবো। আমরা আসলে ঈদ উদযাপন করেছি রাস্তায় মানুষের সঙ্গে। আমাদের অল্প কিছু সংখ্যক লোকজন ছুটি পায়, আর অধিকাংশ লোকজনই আমরা দায়িত্ব পালন করি।
তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার আশা সবারই থাকে। আমরা দেশের স্বার্থে এবং জনগণকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাস্তায় দায়িত্ব পালন করি। দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঢাকায় চাকরি করছি। দায়িত্ব পালনের খাতিরে এখন জনগণের সঙ্গে আমাদের ঈদ পালন করতে হয়। যতই কষ্ট হোক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে জনগণের সঙ্গে ঈদ পালন করাটাই আমাদের এখন কর্তব্য।