Image description

মাসব্যাপী আমল-ইবাদতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পবিত্র রমজান। সংযম, ত্যাগ, অনাহার ও ইবাদত পালনের মাধ্যমে রমজানকে বিদায় জানিয়েছে মুমিন-মুসলমানরা। দীর্ঘ এক মাস আল্লাহপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে মুমিনের হৃদয়। ইবাদত ও সংযমের এ শিক্ষা ইমানদারের জন্য শুধু এক মাসের জন্য নয়, রমজানের পরের এগারো মাসও এর শিক্ষাকে ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। রোজার আত্মিক দিকটি সারা বছরই পালন করতে হবে। সংযমের চর্চা প্রয়োজন রোজার মাসের মতো সারা বছরই। রমজানের রুটিন বাস্তবায়ন করে সারা বছর চললে রয়েছে এর সুফলও। আমলের এ ধারা সারা বছর ধরে রাখতে পারাটাই রমজানের শিক্ষা। রমজানের যে ছয় আমল বছরের অন্য মাস বা সময়গুলোতে জারি রাখা আবশ্যক, এখানে তা উল্লেখ করা হলো—

 

রোজা রাখা
রমজানের রোজা শেষ হলেও অবশিষ্ট মাসগুলোতে বহু নফল রোজা রয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সেসব রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে। যেমন—শাওয়াল মাসের ছয় রোজা, প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা (আইয়ামে বিজের রোজা), প্রতি বৃহস্পতিবার ও সোমবার রোজা, আরাফার দিনের রোজা, আশুরার রোজা ও শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা।

 

নফল নামাজ আদায়
রমজানের দীর্ঘ তারাবির নামাজ শেষ হয়েছে। তারাবির মাধ্যমে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে একসঙ্গে অনেক রাকাত নামাজ আদায়ের ভালো অভ্যাস তৈরি হয়েছে। এই অভ্যাস পুরো বছরই রক্ষা করা উচিত। সেজন্য নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ, সুন্নত নামাজ, চাশত-ইশরাকের নামাজ, তাহিয়াতুল অজু ও তাহিয়াতুল মসজিদ নামাজ পড়া যেতে পারে।

 

কোরআন তেলাওয়াত
কোরআন তেলাওয়াত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিরা নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতেন। মুসলিম মনীষীরাও অধিকাংশ সময় কোরআন তেলাওয়াতে কাটাতেন। রমজানে অনেকেই বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। রমজানের পরও এ অভ্যাস ধরে রাখা উচিত। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করল, তার বিনিময়ে সে একটি সওয়াব লাভ করল। একটি সওয়াব দশটি সওয়াবের সমতুল্য। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি অক্ষর। বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মিম একটি অক্ষর।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৯১০)

 

 

জিকির করা
হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন সময়ে পড়ার বহু তাসবিহ-জিকির আছে। নামাজের পর ও সকাল-সন্ধ্যায় সেসব ফজিলতপূর্ণ তাসবিহ ও জিকির নিয়মিত পাঠ করা উচিত।

 

দোয়া করা
দোয়া মুমিনের হাতিয়ার। এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে সবকিছুই আদায় করে নেওয়া যায়। দোয়া কবুলের বিষয়টি শুধু রমজানেই সীমাবদ্ধ নয়। মুমিনের বৈধ কোনো দোয়ায় আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না। বিলম্বে হলেও বা ভিন্নরূপে কিংবা পাকালের সঞ্চয়রূপে তা কবুল করে থাকেন। এ ছাড়া রমজানের বাইরেও দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু সময় আছে। যেমন—শেষ রাতে, ফরজ নামাজের পর, আজান ও ইকামতের মাঝে, জুমার দিন, কোরআন খতমের পর ইত্যাদি।

 

দান-সদকা করা
রমজানে জাকাত, সদকাতুল ফিতর বা অন্যান্য দান-সদকার আমল শেষ হলেও সারা বছর এ আমলের দরজা খোলা। জাকাত ও সাধারণ দান-সদকা রমজানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা বছরই এর সময় এবং তা সবসময়ই ফজিলতপূর্ণ আমল। অতএব সামর্থ্য অনুযায়ী সারা বছরই দান-সদকার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা উচিত।