বগুড়া শহরে ঈদের আগে মাংস দেওয়ার কথা বলে সারাবছর টাকা তুলে বিতরণের আগমুহূর্তে ভেগে গেছে এক সমিতি। এমন ঘটনা শহরের মালগ্রাম চাপড়পাড়া এলাকায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মাংস নিতে এসে বিষয়টি জানা জানি হয়।
সমিতির সদস্যদের দাবি, ১২০০ পরিবারের প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সমিতির পরিচালকরা। বছরজুড়ে টাকা সঞ্চয় করে মাংস না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে মালগ্রাম নতুন পাড়া এলাকায় স্থানীয় আব্দুল হাকিম, আকরাম ও শাহিন নামে তিন ব্যক্তি ফোর স্টার বিজনেস সমবায় সমিতি। এরমধ্যে আব্দুল হাকিম জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি পদে রয়েছেন।
এই সমিতি ঈদকে কেন্দ্র করে সঞ্চয় চাঁদা তোলে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে টাকা জমা রেখে বছর শেষে ঈদের জন্য মাংস নিয়ে থাকে সমিতি থেকে।
সমিতির সদস্যরা জানান, মালগ্রামের কয়েক পাড়া মিলে প্রায় ১২০০ পরিবার এই সমিতির সদস্য। প্রতি কার্ডের মূল্য ৫ হাজার টাকা। অনেক পরিবার দুই থেকে তিনটি পর্যন্ত কার্ড নিয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৭৭ লাখ টাকা সমিতির হিসাবে জমা হয়েছে এবার। এই টাকা সমিতির চাঁদা উত্তোলনকারীর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে তারা দিয়ে থাকেন।
গত রোববার (১৫ মার্চ) মাংস দেওয়ার কথা ছিল। সেদিন দিতে পারেনি। পরবর্তীতে আজকে মাংস দেয়ার জন্য দিন নির্ধারণ করে তারা উধাও হন।
পারুল নামে মালগ্রাম চাপড়পাড়ার বাসিন্দা ১০ হাজার টাকার সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছিলেন। তিনি জানান, চাপড়াপাড়ার ৭৫০ জন মানুষ বই করেছিল এই সমিতিতে। কেউ ৫ হাজার টাকার, কেউ ১০ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে সবাই কাজ করে ১০০-১৫০ টাকা করে সঞ্চয় করত যেন ঈদের আগে পরিবার নিয়ে একটু আনন্দ করতে পারে। আর এরা সেই গরিবের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল।
আখলি বেগম নামে সেউজগাড়ী এলাকার বাসিন্দা প্রতি সপ্তাহে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করতেন। তিনি জানালেন, এসেছিলাম ১০-১২ কেজি মাংস পেতাম। এখন যা বুঝতেছি এবার ঈদে আর মুখে মাংস উঠবে না। আসার পর শুনতেছি, তারা এলাকায় নেই। নেই বলা হয়েছে, আর কোনো খোঁজ নেই।
ঘটনার পর সমিতির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ এবং পরিচালকরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এমনকি তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য তাদের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী সদস্যের দাবি, তাদের সঞ্চয় করা টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক। এ জন্য তারা প্রশাসনের সহায়তায় কামনা করছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
বগুড়া সদর থানার আওতাধীন স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক কামরুজ্জামান বলেন, মালগ্রাম এলাকায় একটি সমিতি মাংস দেওয়ার নামে প্রতি সপ্তাহে টাকা তুলত। আজ তাদের বিতরণের দিন ছিল। কিন্তু তারা সেটা দিতে না পেরে উধাও হয়ে গেছে। আমরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের পরামর্শ দিয়েছি থানায় অভিযোগ দিতে। অভিযোগ অনুযায়ী আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।