Image description

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে কয়েকজন বিএনপি নেতা অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের উপকারভোগীদের কার্ড পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ওরফে ইকবাল নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই নেতাদের এসব কার্ড সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ওই ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ভিজিএফের কার্ড পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সরকার। কার্ডগ্রহণকারী নেতাদের দাবি, তারা ইউপি পরিষদ থেকে ভিজিএফের কিছু কার্ড পেলেও তা দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছেন। কিন্তু ওই কার্ডগুলো উপকারভোগীদের মাঝে পৌঁছেছে কিনা এবং চাল পেয়েছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
ভিজিএফ কার্ডের উপকারভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পর ইউনিয়ন পরিষদে তালিকা টানানোর নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। উপকারভোগীদের কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন পাইকুরাটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক উপকারভোগীদের শ-খানেক কার্ড মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও হারুন অর রশিদ সরকারসহ ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতাকে সরবরাহ করেছেন। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক নেতা সরাসরি ভিজিএফের উপকারভোগী নির্বাচন বা উপকারভোগীদের কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন না। উপকারভোগীদের তালিকায় অতিদরিদ্র পরিবার, বিধবা/স্বামী পরিত্যক্তা নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দিনমজুর/কর্মহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা নীতিমালায় বলা রয়েছে। 
পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘তারা (খোকন ও হারুন) ভিজিএফের কার্ড নিয়েছেন তা শুনেছি। তারা কার্ড নিয়ে কী করেছেন, তা আমরা জানি না। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তারা ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে অসহায় কারও নাম সুপারিশ করতে পারেন। কিন্তু তাদের কার্ড নেওয়া কাম্য নয়।’
পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ খোকন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সরকার বলেন, চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় তাদের কার্ড দিয়েছেন। তারা এ বিষয়ে চেয়ারম্যানকে কোনো চাপ দেননি। চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছ থেকে যারা কার্ড পায়নি, তারা তাদের (দুস্থ) কার্ড দিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বর্তমান বিএনপির যুগ। তারা (বিএনপি নেতা) কমবেশি নিবেই। শুধু খোকন ও হারুন নয়; অনেক বিএনপি নেতাকেই কার্ড দিতে হয়েছে।’ 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, উপকারভোগী ছাড়া অন্য কারও হাতে কার্ড সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। ওই উপকারভোগীরা চাল না পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।