Image description

সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপ্লবকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে জামিন দেন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে গ্রেফতার করে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

চেয়ারম্যানকে আটকের পরপরই ভিজিএফ চাল নিয়ে ওই এলাকার সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ৩০ পার্সেন্ট চাওয়া নিয়ে একটি কলরেকর্ড ফাঁস হয়। সেই কল রেকর্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের কথা উঠে আসে।

ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে সবুজ চেয়ারম্যান বিপ্লবকে বলেন, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?” জবাবে বিপ্লব বলেন, “এ বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।”

এরপর সবুজ রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, “বিনা ভোটের এমপি যখন ছিলো তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমরা অতীত ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? এ হাজার তিনটি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন।”

ভিজিএফ চালের বিষয়ে বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যান বিপ্লবের একই রকম কথা হয়। সেখানেও এমপির ৩০ পার্সেন্ট বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।

চেয়ারম্যান বিপ্লব পলাতক ছিলেন এমন দাবি করে কালিগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিধান ও সবুজের ফাঁস হওয়া ফোন কল রেকর্ডের সঙ্গে আটকের কোনও সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সন্ত্রাসীদের সুসংঘটিত করছিলেন তিনি। তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আটক করা হয়েছে।”

আগে হওয়া ওই মামলায় কত নম্বর আসামি বা পলাতক ছিলেন কি না এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, “চেয়ারম্যান বিপ্লব পলাতক ছিলেন। ওই মামলায় নামীয় আসামি নয়, সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে।” মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা (জিআর ৪২১/২৫) দায়ের করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠক ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে ৩৩ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে চেয়ারম্যান বিপ্লবের নাম ছিল না। তবুও গত ১২ মার্চ রাতে অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার আদালতে জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির কাজল। তিনি বলেন, “আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চেয়ারম্যান বিপ্লবের জামিন হয়েছে। তবে শঙ্কা রয়েছে, অনেক সময় জামিনে বের হওয়া আসামিকে অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। তার ক্ষেত্রে কী হবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।”