তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এক মাস মেয়াদ পূর্ণ হলো। এই অল্প সময়ে নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উজ্জ্বল সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড চালু, ধর্মীয় সেবকদের সম্মানিভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ এবং দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি, রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু এবং নারীর নিরাপত্তা ও তাদের জন্য পিংক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদে ত্রাণ বরাদ্দ, বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা, ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস, বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে নিজ দলীয় এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল, পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাকেন্দ্র, ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় নীতির মতো ব্যাপক প্রশংসনীয় পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। সবশেষে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা বাতিল করা হয়েছে; যেটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সোমবার সেই দাবি বাস্তবে রূপ দিয়েছে সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কিছুদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারের নীতি, দিকনির্দেশনা, অগ্রাধিকার এবং শাসনব্যবস্থার ধরন সম্পর্কে জনগণ প্রাথমিক ধারণা পেতে শুরু করে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক গতি সঞ্চার, আইনশৃঙ্খলার কার্যক্রম জোরদার, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা এবং জনগণের আস্থা দৃঢ় করার লক্ষ্যে নানা ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে সরকারের প্রথম এক মাসের কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর কাজের এমন দৃষ্টান্ত ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন যুগান্তরকে বলেন, গত মাসের ঠিক এই দিনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে দেশের জন্য প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক মাসের পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এটি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণের প্রতি এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, এক মাসের পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতিটি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আশা ও স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা। একই দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও শপথ নেন। ওইদিন থেকেই বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই জনকল্যাণ, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা জমা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হওয়ায় এটি সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরেকটি ধর্মীয় সেবকদের সম্মানিভাতা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেবকদের মর্যাদা রক্ষায় প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে ৪,৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানিভাতা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্যও সরকারি সম্মানি চালু করা হয়েছে।
কৃষিঋণ মওকুফও আরেকটি প্রতিশ্রুতি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে তারা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিও শুরু করেছে সরকার। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে শুরু হয়ে দেশব্যাপী ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। এটি কৃষি সেচব্যবস্থাকে উন্নত করবে, জলাবদ্ধতা কমাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এছাড়া বেশকিছু পদক্ষেপ মানুষের কাছে প্রশংসা পেয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-ঈদ ত্রাণ বরাদ্দ। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার জন্য ৭০০টি সিনথেটিক শাড়ি, ১০০টি থ্রিপিস এবং ৫০টি হাজি রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সম্পদ আরও সংগঠিতভাবে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং জনগণের সেবা দ্রুততা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শনিবারও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিটি কর্মদিবসে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হয়ে অন্তত ৪০ মিনিট অবস্থান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় ভিভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বহুবার দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িও অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আছে। এটি আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রীয় অপচয় কমাতে বিদেশ সফরের সময় বিমানবন্দরে সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তার উপস্থিতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন কেবল একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সংসদ-সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমে এবং অতীতের মতো দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ হয়।
এছাড়া রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি রোধে কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস ঈদের আগেই পরিশোধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বিএনপির অন্যতম একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। পোশাকশিল্পসহ রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর শ্রমিকদের সময়মতো বেতন ও উৎসব ভাতা নিশ্চিত করতে ২৫০০ কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনরায় ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে পুনর্ভর্তি ফি বাতিল করা হয়েছে। এতে অভিভাবকদের অর্থনৈতিক চাপ কমেছে। শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সহজ করতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ আরও জোরদার হবে। ক্রীড়াকে পেশা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি এবং কুরআন তেলাওয়াত কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় প্রতিটিতে ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সংস্থার পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে পুনরায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসাবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রতি সপ্তাহে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘পিংক বাস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপচয় রোধ ও সংযমের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ইফতার অনুষ্ঠান সীমিত করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ বিল কমাতে সরকারি অফিস চলাকালীন অপ্রয়োজনীয় লাইট, ফ্যান ও এসিসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই উদ্যোগের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিডিআর নাম পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো যাত্রীদের সুবিধার্থে চলন্ত ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকাসহ তিনটি বিমানবন্দরেও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধার আওয়ায় আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী মানেই তার আঙুলের ইশারায় চলবে রাষ্ট্র, কোনো নিয়ম-নীতি থাকবে না; এ রকম একটা ধারণা কাজ করে অনেকের মনে। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর সরকার পরিচালনার সেই ধারায় পরিবর্তন এনেছেন। মানুষ এখন দেখছেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসককে। তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এখন আর বছরের পর বছর আয়নাঘরে থাকার ভয় কাউকে তাড়িত করছে না। নেই গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রের শক্তি নিহিত থাকে জনগণের মধ্যে। তাই দেশের অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে তিনি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসাবে সামনে এনেছেন। একজন দূরদর্শী নেতা হিসাবে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি হিসাবে দেখেন। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের সক্ষম করে তুলতে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন। সরকারের এক মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করলে এক কথায় বলা যায়, এটি জনগণের কল্যাণের সরকার।