দেশের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিল হয়ে পুনরায় মেধা যাচাই বা পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালে আসবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরুর পর কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আমরা কি ভর্তির প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করব? নাকি এডমিশন বাই লটারির মাধ্যমেই আমরা ভর্তি নেব এবং মেধাকে সবসময় দমিয়ে রাখব? এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় রুরাল এবং আরবান—এই দুটি সেকশন রয়েছে। গ্রামীণ জনপদে যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সেখানে প্রি-প্রাইমারি স্কুল আছে এবং ছাত্রসংখ্যা ততটা প্রতিযোগিতামূলক নয়। সে কারণে সেখানে ভর্তির সমস্যা তেমন একটা হয় না।
তিনি বলেন, তবে ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে প্রাথমিক স্তরে ভর্তির একটি সমস্যা রয়েছে। এই জটিলতা নিরসনের জন্য বিগত সরকার লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। তবে সেটি আদৌ কতটা যুক্তিসংগত, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আগামী বছরে এই শিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তি পদ্ধতি কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অর্থাৎ অভিভাবকদের সঙ্গে বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনার মাধ্যমে মতামত নেব। সবার অভিমত নিয়ে একটি জনমত সৃষ্টি করে আমরা আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সেদিন অধিবেশনের প্রারম্ভে ভাষণ দেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি মনোনীত করা হয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। ওইদিন দুপুর ১২টার পর জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।