Image description

খুলনা-মংলা মহাসড়কের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর-বউসহ ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকা চারজনের মরদেহ সেখান থেকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গভীর রাতে খুমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স। স্বজনদের আহাজারি আর শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।


পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শুধুমাত্র সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রশাসনও এতে সম্মতি দেয়।

এর আগে, দুর্ঘটনাস্থল রামপাল থেকে আরও চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরদেহ হস্তান্তরের সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে নৌবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও স্বজনদের সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণ হারান দুই পরিবারের ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকার মিতুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সাব্বির। পরে নববধূকে নিয়ে মোংলার নিজে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় পুরো পরিবার। মোংলা উপজেলার বেলায় ব্রিজ এলাকায় আসলেই ঘটে দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনার পরপরই একের পর এক লাশ ঢোকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নবদম্পত্তিসহ একে একে নয়টি মরদেহ নেয়া হয় মর্গে। এছাড়াও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে আরো চারজনের মরদেহ।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপুলিশ পরিদর্শক এসআই মো. হাসান জানান, নিহতদের সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিল। মাইক্রোবাসে বর পরিবারের ১১, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৫ জন যাত্রী ছিল। আর মৃতদের মধ্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৪ জন ও ড্রাইভারসহ ১৪ জন নিহত হন।