ইরানে মার্কিন হামলার বাস্তবতায় অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রস্তাব খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে ভারত
ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজেল সরবরাহের যে অনুরোধ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ভারত। তবে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রথমে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের ডিজেল সরবরাহের অনুরোধটি ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের ডিজেলের প্রাপ্যতা এবং পরিশোধন সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপসহ অন্য কয়েকটি দেশ থেকেও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুরোধ এসেছে, সেগুলোও ভারত যাচাই করে দেখছে।
এর আগে আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল চেয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু।
গত বুধবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত ডিজেল চাওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কত পরিমাণ ডিজেল চাওয়া হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, জ্বালানি সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি ভারতের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে একসময় ডিজেলের প্রায় পুরোটা আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মূলত কুয়েত থেকেই জাহাজে করে আসত অধিকাংশ চালান। তবে গত দুই দশকে আমদানির উৎসে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ ডিজেল সরবরাহে প্রধান হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি ভারত থেকেও আসছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আমদানির তথ্য বলছে, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা ডিজেলের ৯১ শতাংশই এসেছিল কুয়েত থেকে।
তবে এক দশকের মধ্যে চিত্র বদলাতে শুরু করে। ডিজেল সরবরাহের তালিকায় দ্রুত ওপরে উঠে আসে সিঙ্গাপুর। একসময় প্রধান সরবরাহকারীর অবস্থান নেয় দেশটি। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশ তালিকায় যুক্ত হয়।
এখন আমদানির উৎস আরো বহুমুখী হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে এবং ২৪ শতাংশ মালয়েশিয়া থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা এখন অনেক কমে গেছে।