কিশোরগঞ্জ থেকে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। ২০০৭ সালের দিকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। প্রায় আট বছর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন বর্ষীয়ান এ নেতা। কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে দুবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একাই ন্যূনতম ২৪০ আসনে বিজয়ী হবে বলে দাবি করেছেন ফজলুর রহমান। কালবেলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন ফজলুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজকুমার নন্দী
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনীতিতে তৈরি শূন্যতা বিএনপি কীভাবে পূরণ করতে পারবে?
ফজলুর রহমান: বাংলাদেশের মহান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। মানুষের জন্ম যতটা সত্য, তার চেয়েও বেশি সত্য হলো মৃত্যু। আধুনিক বিজ্ঞান জন্মকে ঠেকাতে পারে, কিন্তু মৃত্যু ঠেকাতে পারে না। কাজেই আল্লাহ যতদিন তার হায়াত রেখেছিলেন, ততদিন উনি পৃথিবীতে ছিলেন। এখন তিনি আল্লাহর কাছে চলে গেছেন।
রাজনীতি হলো টিমের খেলা। পলিটিকস ইজ এ গেম, ইট ইজ নট এ স্পোর্টস। স্পোর্টস হলে পরে একা দৌড় দেবে; একা হাইজাম্প, লংজাম্প, সাতার দেবে। কিন্তু রাজনীতি হলো টিমের খেলা। সেই টিমের খেলায় ১১ জন প্লেয়ার থাকে, ১৪ জন থাকে; মেইনলি ১১ জন খেলেন, সেখানে একজন ক্যাপ্টেন থাকে। ওপেনিং ব্যাটার যদি ভালো খেলতে না-ও পারে, মিডেল অর্ডার ভালো খেললে খেলা জিততে পারে। পেস বোলার যদি ভালো বল করতে না পারে, স্পিনাররা ভালো করলেও খেলা জিততে পারে অর্থাৎ এটা টিমের খেলা। বেগম জিয়া আমাদের টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন ৪১ বছর। এখন আল্লাহ উনাকে নিয়ে গেছেন। কিন্তু ক্যাপ্টেন তো আর সারাজীবন থাকেন না। পৃথিবীতে সব খেলার ক্যাপ্টেন কিন্তু পরিবর্তন হয়। এখন আমাদের যিনি ক্যাপ্টেন এসেছেন, তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। মানুষ মনে করে, আমরাও মনে করি, তারেক রহমান এই হালটা ধরতে পারবেন। ক্যাপ্টেন হিসেবে এই বিএনপি টিমের নেতৃত্বটা তিনি দিতে পারবেন, এমনকি জাতীয় টিমের নেতৃত্বও দিতে পারবেন। তারেক রহমান অলরেডি দেশে এসে পড়েছেন। এটা বোধহয় আল্লাহর একটা খেলা। কারণ, পতিত ফ্যাসিবাদের কারণে তিনি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে দেশে আসতে পারছিলেন না। এখন হঠাৎ করে বেগম জিয়ার মৃত্যুর আগে বিশ্ব রাজনীতি এবং দেশীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনি ফিরে এসেছেন; এটা আল্লাহর একটা খেলা। আমার ধারণা, উনি দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। দেশি-বিদেশি সব রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও তাই মনে করেন, তারেক রহমান নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
কালবেলা: খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন এ দেশের জনগণ এবং বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বের অনেক দিক আছে। আপনি উনার নেতৃত্বের বা চরিত্রের কোন দিকটাকে স্মরণ করবেন বা উল্লেখ করতে চাইবেন?
ফজলুর রহমান: আমি বেগম খালেদা জিয়াকে যতটুকু দেখেছি, দুটি জিনিস আমাকে বিমুগ্ধ করেছে। তার ব্যক্তি চরিত্রের একটা হলো অসম্ভব ধৈর্য ও সাহসিকতা। দুই নম্বর হলো অন্যের প্রতি তার ব্যবহার। আপনি যতই তার বিরোধিতা করেন, তাকে বকাবকি করেন; উনি যখন আপনার সামনে গিয়েছেন, আপনার সঙ্গে কথা বলেছেন, তখন মনে হয়েছে যে উনি কিছুই জানেন না কিংবা সবকিছু ভুলে উনি সঠিক কথাটি বলার চেষ্টা করেছেন এবং আপনার প্রতি উনি ব্যবহারটা এমন করেছেন—বোন যেমন ভাইয়ের প্রতি ব্যবহার করে, একজন নেতা যেমন তার দেশের মানুষের প্রতি ব্যবহার করে, একজন মানুষ তার বন্ধুর প্রতি যেমন ব্যবহার করে, সেই ব্যবহারটাই উনি করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, কথা বলতে গিয়ে কোনো মানুষকে উনি জীবনে কোনোদিন অসম্মান করেননি, যদিও হয়তো বা তার সঙ্গে তার প্রচুর বিরোধিতা ছিল। আরেকটা হলো, অসম্ভব ধৈর্য, উনি অপেক্ষা করেছেন অনেক দিন। জেলে গেছেন, অপেক্ষা করেছেন, মাথা নত করেননি। এই ধৈর্যটা তার মারাত্মক, সঙ্গে আপসহীন সাহসিকতা। অন্যায়ের সঙ্গে কিছুতেই আপস করেননি। আইদার লাইফ অর ডেথ, জীবন অথবা মৃত্যু, অসত্যের সঙ্গে অবনত নাহি হবে শির—এটাই ছিল উনার চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য।
কালবেলা: নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া নারীর ক্ষমতায়ন-নারীর অগ্রগতির স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাংলাদেশের মতো একটা পশ্চাৎপদ দেশে খালেদা জিয়ার গৃহবধূ থেকে এসে বিএনপির মতো একটা দলের নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া, বাংলাদেশের নারীর অগ্রগতিতে এটিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
ফজলুর রহমান: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং মানুষের অধিকার আদায়ের মিছিলে উনার সঙ্গে চতুর্পাশে মেয়েরা ছিল। উনি নারীদের ঘর থেকে বের করে আনতে পেরেছিলেন, তাদের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে পেরেছিলেন। আজকে যে অপশক্তি এবং মধ্যযুগীয় বর্বর শক্তি নারীদের আবার ঘরে ঢুকিয়ে দিতে চায়, আবার অন্ধকারের যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়, এর বিরুদ্ধে উনার একটা সাংঘাতিক প্রতিবাদ ছিল। নারীমুক্তির জন্য উনি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। উনাকে দেখেই নারীরা দলে দলে ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন, পৃথিবীকে শিখেছেন, মুক্ত আলো-বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে শিখেছেন, জ্ঞান অর্জনে নিজেদের দীক্ষিত করতে পেরেছেন। কাজেই নারী শিক্ষার ব্যাপারে উনার যে একটা মারাত্মক অবদান, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। উনিই প্রথম বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেছিলেন। স্বাধীনতার ১৯ বছর পর্যন্ত কোনো মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ছিল না। উনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করলেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল দাবি করে আওয়ামী লীগ।
কালবেলা: ১৯৭১ সালে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উনি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস তখন দুই শিশুসন্তান নিয়ে গৃহবন্দি ছিলেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানাভাবে এটাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে উনার যে অংশগ্রহণ, উনার যে ভূমিকা—এ বিষয়টা খুব একটা উল্লেখ করা হয় না। এটা কেন?
ফজলুর রহমান: খালেদা জিয়ার যে জনপ্রিয়তা—সেই জনপ্রিয়তাকে আওয়ামী লীগের কিছু লোক সহ্য করতে পারে না। এ জন্য প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তারা নানান কথা বলে। কিন্তু আওয়ামী লীগের যিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতা, সেই শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে বলেছেন যে, ও আমার মেয়ে। সুতরাং আওয়ামী লীগের যারা খালেদা জিয়ার প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এবং তার জনপ্রিয়তাকে যারা হিংসা করে, তারাই তার অবদানকে স্বীকার করতে চায় না।
কালবেলা: তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। সেদিন পূর্বাচলের তিনশ ফিটে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি শান্তির কথা বলেছেন, মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। আগামীর রাজনীতিতে কি আমরা ইতিবাচক, গুণগত পরিবর্তন দেখতে পাব?
ফজলুর রহমান: তারেক রহমানের বয়স যখন ২৫ বছর ছিল, উনি এক রকম কথা বলেছেন; ৩৫ বছরে আরেকটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে। এখন উনার বয়স ৬০ বছর। কাজেই উনার যে অভিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতার যে জ্ঞান, সেই জ্ঞানের পরিস্ফুটন ঘটছে। উনি এমন একটা রাষ্ট্রে গত ১৭ বছর ধরে ছিলেন—যে রাষ্ট্রটাই পৃথিবীতে আধুনিক গণতন্ত্রের উন্মেষ ঘটিয়েছিল। কাজেই আমি মনে করি, উনার মধ্যে ওই জিনিসগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে এবং উনি পরিপূর্ণভাবে এ দেশে একটা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, অভিজ্ঞতা থেকে আরও অর্জন করবেন—এটাই দেশের মানুষ মনে করে।
কালবেলা: নির্বাচন কেন্দ্র করে এখন বৃহৎ দুইটা জোট। একটা বিএনপির নেতৃত্বে এবং অন্যটা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও যুক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আপনি কী বলবেন?
ফজলুর রহমান: আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, আমার অনেক কথা বিশেষ করে এ কথাটি আজকে হুবহু প্রতিফলিত হয়েছে। আমি বলেছিলাম, একই বিন্দুতে এরা সবাই জামায়াতের লোক। এই ছেলেপেলেরা—এদের সম্পর্কে তেমন কিছু বলতে চাই না। এদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কে যা বলা হয়, এদের পেছনে একটা অন্ধকারের শক্তি আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই অন্ধকারের শক্তি যখন আরও গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, তখন দেখতে পাবেন—দে আর নোবডি ইন বাংলাদেশ।
কালবেলা: ধরা যায়, এ দুটি জোট ভোটের মাঠে গড়াবে এবং ভোটের মধ্য দিয়ে ফয়সালা হবে—সেটা তো জোটের একটা দিক। কিন্তু এই দুইটা জোটের মধ্যে আপনি আদর্শিক এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বটা কি দেখতে পান?
ফজলুর রহমান: এই দেশে প্রধান দ্বন্দ্ব হলো প্রিন্সিপাল কন্ট্রাডিকশন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল দ্বন্দ্ব হলো—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক ছিল না ভুল ছিল? এই জায়গায় দেশটা দুইটা ভাগ হবে। যারা মনে করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সঠিক ছিল, তারা একপক্ষে দাঁড়াবে। এটা আমি বারবার বলছি, আগামী দিনেও বলব এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হবে। আর যারা মনে করে মুক্তিযুদ্ধটা গন্ডগোল ছিল; ভারত এটাকে দুষ্টুমি বা ষড়যন্ত্র করে ভাইয়ে ভাইয়ে গন্ডগোল লাগিয়েছে, তাদের আরেকটা দিক হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হবে যে, মুক্তিযুদ্ধ সঠিক ছিল না ভুল ছিল। আমার বিশ্বাস, ৯০ শতাংশ মানুষ মনে করে মুক্তিযুদ্ধ সঠিক ছিল বা সংখ্যাটি আরও বেশি। মূল কথা—প্রিন্সিপাল কন্ট্রাডিকশন হলো মুক্তিযুদ্ধ। এখানে ইলেকশনের প্রতিযোগিতায় কে হারবে, কে জিতবে—এখন দেশে এইটা প্রধান কন্ট্রাডিকশন না। এখনো বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নটাই প্রধান যুদ্ধ।
কালবেলা: দ্বন্দ্বটা মৌলিক হলে সেক্ষেত্রে বিএনপিরও তো দায় আছে। অভিযোগ আছে—তারা এই শক্তিকে নানাভাবে লালিত-পালিত করেছে, সরকারেও স্থান দিয়েছে। তাহলে বিএনপি কি এখন এই দায়টা স্বীকার করবে?
ফজলুর রহমান: যে দলটার জন্য বাংলাদেশটা আজকে সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে, সেই জঙ্গি শক্তির হাত থেকে অনেকটা বেঁচে গেছে, যে দলটা বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে—সেই দলটা হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি তো একটা বিশাল রাজনৈতিক দল, প্ল্যাটফর্মের মতো—এখানে অনেক রকমের লোক আছে। সবশেষেও রাত্রি শেষে যখন কাজটা ঠিক হবে, দিনের শেষে যখন খেলাটায় জয়লাভ হবে, সেটাই হলো মূল ব্যাপার। কয়টা গোল খেলাম বা দিলাম, সেটা মূল ব্যাপার না। কিন্তু ফাইনালি যদি আমি জয়লাভ করি এক গোলেও, তাহলে বুঝতে হবে যে—আমি জয়ী দল। বিএনপি কিন্তু আগের মতো এখনো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই দাঁড়িয়েছে, তা না হলে এতদিনে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সূর্য আপাতত অস্তমিত হয়ে যেত।
কালবেলা: জোট গঠনের পরে জামায়াত এখন বলছে তাদের শক্তি অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এখন একা হয়ে গেছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফজলুর রহমান: একটা বড় রুই মাছে ১০টা তরকারি হয়। অন্যদিকে ১০টা বইসা মাছ অর্থাৎ ১০টা ছোট মাছে একটা তরকারিও হয় না। কাজেই সংখ্যা দিয়ে তো আপনি বিচার করতে পারবেন না যে, কার শক্তি কত? কার জনপ্রিয়তা বেশি? তা ছাড়া বিএনপি তো একা না। বিএনপির সঙ্গে আরও অনেক রাজনৈতিক দল আছে। সেই দলগুলো ছোট হতে পারে, কিন্তু তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি এত বেশি, তাদের ত্যাগ এত বেশি যে তাদের বিবেচনায় নিতে হবে। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি যে, যখন নির্বাচন হবে, বিএনপি জোট একাই ৮০ শতাংশ সিট পাবে অর্থাৎ তিনশ আসনের মধ্যে ন্যূনতম ২৪০টা আসনে জয়লাভ করবে। আর ওই এনসিপির ক্ষমতা বলেন, আবারও বলি—একটা ষাঁড়ের শিংয়ের ওপর একটা মাছি বসলে তাতে ষাঁড়ের কিন্তু খুব ওজন বাড়ে না।
কালবেলা: অভিযোগ আছে—জামায়াতের পক্ষ থেকে গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে নারীদের বলা হচ্ছে যে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে তারা জান্নাত পাবে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ধানের শীষে ভোট দিলে তারা ফ্যামিলি কার্ড পাবে, কৃষি কার্ড পাবে, দেশের উন্নয়ন হবে। একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষে, একটা ইসলামী দলের পক্ষে কি জান্নাতের টিকিট দেওয়া সম্ভব? আপনি কী মনে করেন?
ফজলুর রহমান: আমি কোনো মৌলভি-মাওলানা কিংবা ধর্মবিষয়ক জ্ঞানী মানুষ নই। তবে বহু আলেম-ওলামা, বহু বিজ্ঞ-জ্ঞানী ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছি, সবাই বলেছেন, যারা এ কথাটা বলে যে, জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে— এটা কুফুরি কথা, এই কথা কাফেররা বলে। সুতরাং এ কথা যারা বলে, তারাই বরং দোজখে যাবে।
কালবেলা: জামায়াত খুলনা-১ আসন থেকে কৃষ্ণ নন্দী নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী করেছে। বলা হচ্ছে, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট পেতে তারা এ কৌশল অবলম্বন করেছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফজলুর রহমান: কয়েকদিন আগে দেখলাম শেরপুরে একটা বিয়ে হয়েছে। বিদেশে থাকে এমন একটি ছেলে দেশে এসে গ্রামের একটা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করেছে। একদিকে স্বর্ণ দিয়েছে, আরেকদিকে মেয়েটাকে ওজন করছে এবং মেয়েটাও খুব খুশি মনে বিয়েতে বসে গেছে। এর অর্থ এই না যে, এই স্বর্ণ আর এই মেয়েটা সমান সমান ওজনের। সবাই স্বর্ণ দিয়ে ওজন করে মেয়ে বিয়ে করবে না। এখানে কিছু লোক কেনাবেচা হবে, সেটা যেই হোক।
কালবেলা: বাংলাদেশে গত ১৬ থেকে ১৭ বছর আওয়ামী লীগ এবং ভারত—এ বিষয়গুলোকে এক সরলরেখায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ রকমও বলা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে হিন্দুরা নিরাপদ নয়। কিন্তু গত দেড় বছরে তো সেটার প্রতিফলন সেভাবে দেখা যায়নি। তাহলে এ ন্যারেটিভটা কি এখন ভেঙে পড়ছে?
ফজলুর রহমান: না, জিনিসটা এ রকম নয়। এটা সাংঘাতিকভাবে বিশ্লেষণধর্মী কথা। ভারত বিভক্তির পর এই দেশ যখন পূর্ব পাকিস্তান হয়, তখন এখানে ৩১ শতাংশ হিন্দু ছিল। আজকে সেই হিন্দু সংখ্যা কিন্তু ৯ শতাংশ। তাহলে এই ২২ শতাংশ হিন্দু গেল কোথায়? হিন্দুদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তার ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে কী নেই, সেটা বলব না। কিন্তু তাদের জন্য সবসময় একটা ভীতিকর পরিবেশ কাজ করে। আওয়ামী লীগ যে কাজটা করে, তারা একটা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। তবে নিজেরা কতটুকু ধর্মনিরপেক্ষ, সেটা না বলে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে হিন্দুদের একটা সাহস দিয়ে রাখে। কিন্তু এটা আদর্শিক নয়। আর বিএনপির রাজনীতিটা হলো, তারা সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, এই দেশটা হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবার।
এখানে ফিলোসফিক্যালি একটা ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক দেশ হওয়া উচিত। শুনো হে মানুষ ভাই, সবার ওপরে মানুষ সত্য তার ওপরে নাই—এটা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রশ্ন নয়। ও তোরে একটু শেল্টার দিব নে আমি, আচ্ছা থাক—আমারে ভোট দে। নো, এটা হলো ফিলোসফিক্যাল প্রশ্ন, ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্ন। তুমিও থাকবে, আমিও থাকব—এ দেশ আমাদের সবার। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হবে না।
কালবেলা: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভোটকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের প্রতি আপনার আহ্বান বা বক্তব্য কী থাকবে?
ফজলুর রহমান: বিএনপি সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাসী নয়। তারা এই দেশের নাগরিক। সবাই আমরা বাংলাদেশি, বাঙালি। এ দেশে তো ৯৯ শতাংশ বাঙালি। মুসলমান ৯২ শতাংশ, কিন্তু বাঙালি তো ৯৯ শতাংশ। ১ শতাংশ পাহাড়ি বাদ দিলে আমরা তো সব বাঙালি। কাজেই এখানে ধর্মসত্তায় একদল হিন্দু-মুসলমান হতে পারে। কিন্তু জাতিসত্তায় তো আমরা সবাই বাঙালি এবং রাষ্ট্রীয় সত্তায় তো আমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে সংখ্যালঘুর প্রশ্ন তো আসে না। কাজেই হিন্দুরা এ দেশে যদি সাহসিকতার সঙ্গে থাকে, আমি তাদের বলব, সেই রাজনীতি এবং নেতৃত্ব এ দেশে নিশ্চয়ই আসবে যে, তাদের মনেই হবে না আমি হিন্দু হিসেবে এ দেশে বসবাস করছি। ফ্রান্সে যে হিন্দু বসবাস করে, আমেরিকায় যে হিন্দু বসবাস করে, তার মনেই হয় না যে, সে হিন্দু; হিন্দুত্বের কারণে তার ওপরে কোনো অবিচার হতে পারে। এটা হলো, একটা সমাজ তার ধর্মকে কী আঙ্গিকে দেখে, সেটার ব্যাপার।
কালবেলা: এবার নির্বাচনে তরুণ যে প্রজন্ম, যাদের অনেকে গত ১৫ বছর ভোট দিতে পারেনি, এই প্রথম তারা ভোট দেবে। যদিও শুধু তারা নয়, অনেকেই ভোট দিতে পারেনি। আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও এই তরুণদের একটা বড় অংশগ্রহণ ছিল। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে তরুণ ভোটারদের প্রতি আপনার কী আহ্বান থাকবে?
ফজলুর রহমান: তরুণ প্রজন্ম চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে একটা বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। হাসিনার ১৫ বছরের যে দুঃশাসন, লুটপাট তো আছেই; কিন্তু তিনটি নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মসহ একটা দেশের মানুষ তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এটা জঘন্য ব্যাপার। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার সেটাই করেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সমস্ত তরুণ প্রজন্ম, সব মানুষ ক্ষেপে গেছিল। এই তরুণ প্রজন্ম দেখছে, শেখ হাসিনা ও তার সরকার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে। কাজেই তরুণরা তখন মনে করত, মুক্তিযুদ্ধ মানে নির্বাচন হবে না। এটার নাম হলো মুক্তিযুদ্ধ।
অবশ্য ৫ আগস্টের পর থেকে গত ১৫ মাসে ওই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকে কুকথা বলছে, মুক্তিযুদ্ধ হয়নি বলে কেউ কেউ অস্বীকার করছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলতে আমাদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছি যে, এখন তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারছে শেখ হাসিনা আর মুক্তিযুদ্ধ এক জিনিস নয়। শেখ হাসিনা খারাপ করেছে, তাকে চলেও যেতে হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ থাকবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোককেই ভোট দেবে।
কালবেলা: বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটাররাও সংখ্যায় প্রায় সমান। আমাদের বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের অগ্রগতিও আমরা জানি। নির্বাচন সামনে রেখে এই নারী ভোটারদের প্রতি আপনার বা আপনার দলের আহ্বান কী থাকবে?
ফজলুর রহমান: আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে দাঁড়িয়ে আলেকজান্ডার যখন তার সেনাপতি সেলুকাসকে বললেন যে, আমি ওই পাড়ে যাব না, আমি বাংলায় যাব না; সেলুকাস তখন বলেছিল—কেন স্যার? সারা ভারতবর্ষ আপনি জয় করেছেন, বাংলায় কেন যাবেন না? তখন আলেকজান্ডার উত্তর দিয়েছিলেন, বড় বিচিত্র দেশ এটা-সেলুকাস, তার চেয়ে বিচিত্র এই দেশের মানুষ। আমার কাছে বিচিত্রই লাগে যখন দেখি, কিছু মেয়ে বোরকা পরে ঘরে ঘরে গিয়ে টাকা বণ্টন করে, শীতের দিনে কম্বল বণ্টন করে আর বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাবেন; সেই মেয়েগুলো যে আস্তে আস্তে মধ্যযুগের দাসী হয়ে যাচ্ছে—সেটা তারা ভাবতে পারে না। সেই মেয়েগুলো যে কোনোদিন সূর্যের আলো দেখবে না, সেই মেয়েদের মেয়েগুলো যে ক্লাস ফাইভের বেশি পড়তে পারবে না, ১১ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যাবে, নারী হয়ে যাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত জীব—এই মেয়েগুলো আবার জামায়াতের টাকা খেয়ে কিংবা জামায়াতের লাভ ও লোভে তারা গিয়ে আবার তাদের পক্ষে ক্যানভাস করে; কিন্তু এটা বেশিদিন নয়। ইউ ক্যান ব্লাভ সাম ম্যান ফর মেনি টাইমস, মেনি ম্যান ফর সামটাইম, বাট নট অল ম্যান ফর অলটাইম—মহিলারা নিশ্চয় এটা বুঝবে এবং নারীর অধিকার সম্পর্কে যারা এসব কথা বলে, তাদের জুতাপেটা করবে। বেগম রোকেয়াকে যারা বলে পতিতা, তাদের মানুষ জুতাপেটা করবে—সেই দিনটাও সামনে আসছে। যারা রোকেয়া হলে রোকেয়া নামটা গোবর দিয়ে মুছে দেয়, তাদের জুতা পেটা করবে মানুষ।
কালবেলা: জামায়াত বলছে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে কর্মজীবী নারীদের কর্মসময় পাঁচ ঘণ্টা করবে এবং এটার মাধ্যমে নাকি তাদের সম্মান দেওয়া হবে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ফজলুর রহমান: জামায়াতে ইসলামী সকালে কী বলে, বিকেলে কী বলে, নিজেরাই জানে না। এতদিন কী বলেছে, পিআর ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এটা ছাড়া, ওইটা ছাড়া যাবে না। এখন তো সাপের মতো গর্তে গিয়ে সোজা হয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী না, এদের জামায়াত বলবেন। জামায়াতে ইসলাম মানে জামার মধ্যে ইসলাম। জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা ইসলামী দল ভাবেন কেন? রিয়েলি ইসলাম হলো আহলে সুন্নাতুল জামায়াত। যারা এই ভারতবর্ষে ইসলাম এনেছে, সেই খাজা মইনুদ্দিন চিশতি থেকে হজরত শাহজালাল-শাহপরাণ-গেসুদারাজ-বায়েজিদ বোস্তামীর থেকে ধরে যারা বাংলায় ইসলাম এনেছে, সেই সুন্নিই হলো আসল মুসলিম। সেই পথে বাংলা আছে এবং থাকবে।
কালবেলা: ৫ আগস্টের পর আমরা তৌহিদী জনতা নামে এক ধরনের উচ্ছৃঙ্খল জনগোষ্ঠীকে দেখি—যারা মাজার ভাঙা, বাউলদের ওপর হামলা, গান বন্ধ করা, সংগীত শিক্ষক নিয়োগে বাধা দিয়েছে। তারপর এটার মধ্য দিয়ে বাংলা সম্পর্কে বিশ্বে এক ধরনের ন্যারেটিভ চিত্রায়িত করার চেষ্টা হয় যে, এখানে মৌলবাদ-ফান্ডামেন্টালিস্টদের উত্থান ঘটেছে—যেটা আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ফজলুর রহমান: এটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিপদ। তারা হলো অন্ধকারের জীব, কিন্তু এটা থাকবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যদি সঠিকভাবে বাংলাদেশকে চালাতে পারি, আমরা দেশের মানুষ যদি ভালোভাবে চলি—এসব তৌহিদী জনতার নামে অন্ধকারের যে শক্তি, মধ্যযুগীয় বর্বর যে শক্তি—এরা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এরা মাফ চাইবে। আমি তাদের বলব—বাবারা, ধর্মের নামে তোমরা এতদিন যা করলে, আর করো না। ইট ইজ এনাফ অ্যান্ড এনাফ, এটা বন্ধ করো।
কালবেলা: তারেক রহমান দেশে ফিরে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন যে, দেশের জনগণের জন্য তার একটা পরিকল্পনা আছে। আসলে সেই পরিকল্পনাটা কী, আপনি তার এ বক্তব্যকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
ফজলুর রহমান: তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। এই দুজনের সম্মিলিত যে পরিকল্পনা—সব দেশের মানুষকে নিয়ে আমরা বাঁচব, গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা বাঁচব। শহীদ জিয়ার যে প্ল্যান এবং এই দেশে কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান এটা বাদ দিয়ে আমরা একটা অসাম্প্রদায়িক দেশ সৃষ্টি করব—এটা একটা প্ল্যান। এ ছাড়া ৩১ দফাভিত্তিক যে কর্মসূচি আছে, এর মধ্যে বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধানের কথা আছে, সেটা বলব না; কিন্তু বেশিরভাগ সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা আছে এবং সেই সমস্যাগুলোর আপাত সমাধান হলে কিন্তু তারেক রহমানের ভেতরের যে প্ল্যানটা, যেটি তার ৩১ দফার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে, মানুষ সুফল পাবে।
কালবেলা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভোটের আগে দেশের জনগণের প্রতি আপনার কী আহ্বান থাকবে?
ফজলুর রহমান: হাজার বছর ধরে বাংলার মুসলমান মায়েরা নামাজ পড়ে খোদার কাছে প্রার্থনা করেছে—হে খোদা, আমাদের এমন এক অমৃতের সন্তান দাও, যা আমাদের পরাধীনতা থেকে মুক্তি দেবে। হাজার বছর ধরে বাংলার হিন্দু নারীরা সন্ধ্যাবেলায় তুলসীতলায় ভগবানের কাছে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেছে—হে ভগবান, আমাদের এমন এক অমৃতের সন্তান দাও, যে সন্তান আমাদের বাংলায় স্বাধীনতা দেবে। সেই মায়েরা কেঁদে কেঁদে একসময় নীল সাহেবদের অত্যাচারে-বর্গীদের অত্যাচারে বলেছে, ছেলে ঘুমাল পাড়া জুড়াল বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিব কীসে? ধান ফুরাল পান ফুরাল খাজনার উপায় কী, আর কটা দিন সবুর করো রসুন বুনেছি।
দেশবাসীকে বলব, হে বাঙালি জাতি, হে বাংলার মানুষ, যার জন্য আপনাদের পূর্বপুরুষরা লাখে লাখে রক্ত দিয়ে গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, ২ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে, সাম্প্রদায়িক শক্তি-বর্বর শক্তি-মধ্যযুগীয় ধর্মান্ধ শক্তির হাতে যেন বাংলার স্বাধীনতার সেই সূর্য অস্তমিত না হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি সেই দিকটা আপনারা লক্ষ রাখবেন। সেটাই হলো মানুষের কাছে আমার আহ্বান।
কালবেলা: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
ফজলুর রহমান: কালবেলাকেও ধন্যবাদ।