Image description

এহসান মাহমুদ; সাংবাদিক, লেখক, কথাসাহিত্যিক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার চাকরি হারাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি একজন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও স্বাধীনতা, তরুণ প্রজন্মের আত্মত্যাগ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণে সাংবাদিকদের করণীয় বিষয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

 

স্ট্রিম: জুলাই আন্দোলনের সময় চারদিকে যখন তীব্র সংঘাত ও গুলি চলছিল, সাংবাদিক হিসেবে নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে টিকে ছিলেন। এই সাহসের পেছনে কী ছিল?

এহসান মাহমুদ: আমরা এখন ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে ঠিক দু’বছর আগের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করছি। পেশাগত কারণে ওই উত্তাল সময়ে মাঠে থাকার সাহসটা তৈরি হয়েছিল আমার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে। ২০২৩ সালে আমি চাকরিচ্যুত হই। তখন থেকেই রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়ন খুব কাছ থেকে টের পাই।

জুলাই আন্দোলনের সময় আমি ‘নেত্র নিউজ’-এ কর্মরত ছিলাম। আমার সম্পাদক তাসনিম খলিল ছিলেন আমার সাহসের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চরম বৈরী পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাই আমাকে মাঠে টিকে থাকার সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া, এর আগের কয়েকটি মেয়াদে একতরফা ও ডামি নির্বাচন দেখার পর একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #StepDownHasina কর্মসূচি শুরু করেছিলাম। আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এই তাড়নাই ছিল আমার সাহসের মূলমন্ত্র।

স্ট্রিম: অভ্যুত্থানের সময় মূলধারার অনেক গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাংবাদিক হিসেবে সেই সময়কার ‘সেন্সরশিপ’ বা অভ্যন্তরীণ চাপ কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

এহসান মাহমুদ: এদিক থেকে আমি নিজেকে বেশ ভাগ্যবান মনে করি। তখন আমি ‘নেত্র নিউজ’-এর স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে ঢাকায় আন্ডারকাভার কাজ করতাম মূলত ২০২৩ সালে চাকরি যাওয়ার পর থেকেই। নেত্র নিউজ দেশের অন্যান্য আট-দশটি সাধারণ গণমাধ্যমের মতো ছিল না। আমার সম্পাদক, ম্যানেজিং এডিটর, ফটোগ্রাফারসহ পুরো টিমই খুব সাহসী ও সাপোর্টিভ ছিল।

এর বাইরে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে আমরা যেসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছিলাম, সেখানকার সহযোদ্ধাদেরও পাশে পেয়েছিলাম। মূলধারার গণমাধ্যমে তখন তীব্র সেন্সরশিপ ছিল। তবে সেই সেন্সরের ফাঁক গলে যারা সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করতেন, তাদের সাথে আমাদের একটা ঐক্য তৈরি হয়েছিল। ন্যূনতম সত্যটুকু যারা বলতে চেয়েছেন, তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা তখন একটা টিমের মতো কাজ করেছি।

স্ট্রিম: আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে কী ধরনের বাধা বা হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছিল?

এহসান মাহমুদ: ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের কথা আমার বেশ মনে পড়ে। আগের দিন শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি কভার করতে আমরা সেখানে যাই। তখন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আক্তার হোসেনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি, আরিফুল ইসলাম আদীব, আল জাজিরার সাংবাদিক, এপির ফটো জার্নালিস্ট এবং নেত্র নিউজের ফটোগ্রাফারসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে ছিলাম।

হঠাৎ পুলিশ সাংবাদিকদের ছত্রভঙ্গ করতে আমাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। রমনা জোনের তৎকালীন এসি ভিসি চত্বরে লাঠিচার্জ করার নির্দেশ দেন। আমরা রাজু ভাস্কর্যের কাছে ছিলাম। সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টার আমার পায়ে এবং চ্যানেল এস-এর এক সাংবাদিকের গায়ে লাগে। এরপর রমনার এসি আমাকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। দুজন কনস্টেবল আমাকে ধরে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন সাংবাদিক সাইদিয়া গুলরুখ, রেহনুমা আহমেদ এবং প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার শহিদুল আলম। শহিদুল ভাই ছবি তুলছিলেন, আর রেহনুমা আপা ও সাইদিয়া আপা আমাকে জড়িয়ে ধরে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে দ্রুত শহিদুল ভাইয়ের গাড়িতে তুলে দেন। এভাবেই সেদিন আমি গ্রেফতার এড়াই। তবে ওই রাতেই মিরপুরের পল্লবীতে আমার বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছিল।

স্ট্রিম: কোটা সংস্কার থেকে যখন আন্দোলন এক দফা দাবিতে রূপ নিল। সাংবাদিক হিসেবে সেই পরিবর্তনের হাওয়া মাঠে থেকে কীভাবে টের পেয়েছিলেন?

এহসান মাহমুদ: পহেলা জুলাইয়ের দিকে আস্তে আস্তে কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে বিকেল পাঁচটায় সমন্বয়কদের প্রথম প্রেস কনফারেন্স হয়। সেখানে নাহিদ ইসলাম, হান্নান মাসুদ, রিফাত রশিদরা ছিলেন। নানা সূত্রে তাদের সঙ্গে আমার আগে থেকেই পরিচয় ছিল।

 

ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং সংবাদকর্মীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। তারা সাংবাদিকদের কতটা নিরাপত্তা ও উদার পরিবেশ দিতে পারছে, তার মাধ্যমেই প্রমাণ হবে দল হিসেবে তারা কতটা গণতান্ত্রিক আচরণ করতে সক্ষম।

 

সেখানে কথা বলার সময় রিফাত ও হান্নান জানান যে তারা নানাভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যেন তারা আন্দোলন আর সামনের দিকে না নেন। সেদিন রাতেই আমি আমার সম্পাদক তাসনিম ভাইকে এই পুরো পরিস্থিতি জানাই। তিনি আমাকে পরামর্শ দেন যেন আমি সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে মাঠে থাকি এবং সবার আগে আপডেট সংগ্রহ করি।

এরপর যখন 'বাংলা ব্লকেড'-এর মতো কর্মসূচিগুলো শুরু হলো, তখন মাঠের হাওয়া বদলাতে শুরু করে। আমরা দেখলাম, মিরপুর ১০ নম্বর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, চানখাঁরপুল থেকে শুরু করে শাহবাগ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যখন সাধারণ মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করল, তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে এটি আর কেবল কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকার পতন বা এক দফার আন্দোলনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

স্ট্রিম: আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগকে আপনি কাছ থেকে দেখেছেন। তাদের এই শক্তিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এহসান মাহমুদ: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চালিকাশক্তি তরুণরা। ১৬ থেকে ৩০-৩১ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাই এই আন্দোলনের স্পিরিট। তারাই এর মেরুদণ্ড এবং মূল কারিগর। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই প্রজন্ম মূলত একধরনের ‘ওয়ার্ম-আপ’ বা প্রস্তুতি সেরে নিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাগুলোই ২৪-এর অভ্যুত্থানকে বেগবান করে সফলতার দিকে নিয়ে গেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ‘জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়ন’ শীর্ষক যে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি দেখলেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আন্দোলনে হতাহত ও অঙ্গহানির শিকার হওয়াদের তালিকায় তরুণরাই সবচেয়ে এগিয়ে। এর মানে হলো, লড়াইয়ের ময়দানে সম্মুখভাগে এই তরুণরাই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এটিই তরুণ প্রজন্মের অদম্য স্পিরিট।

স্ট্রিম: আপনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। এর জন্য আপনাকে কোনো ধরনের বিপদে পড়তে হয়েছিল কিনা?

এহসান মাহমুদ: ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির পর থেকে বিরোধী মতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু হয়। অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং ঘরছাড়া করা হয়। সেই সময় থেকেই আমরা নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে সোচ্চার হই। ঢাকা শহরে লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের নিয়ে ভোটাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালন করা হয়। আমি সৌভাগ্যবান যে এমন কিছু গণতন্ত্রমনা মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

আমরা বুঝতে পারছিলাম যে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঘোষিত নির্বাচনটিও আগেরগুলোর মতো একতরফা হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনটি সম্পন্ন হওয়া মানেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া। আমার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল যে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও আমি জীবনে কখনো নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। একজন নাগরিক হিসেবে ভোট দিতে না পারার এই বঞ্চনাই আমাকে সোচ্চার হতে এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামতে সবচেয়ে বেশি উদ্বুদ্ধ করেছিল।

স্ট্রিম: আন্দোলন চলাকালে কারও কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন কি না?

এহসান মাহমুদ: অনেকের সহযোগিতা পেয়েছি। দুটি ঘটনার কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। ১৭ জুলাই রাতে পুলিশ যখন মিরপুরে আমার বাসায় খুঁজতে আসে, আমি তখন কোনোমতে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট আর টি-শার্ট পরা অবস্থায় শুধু মোবাইল হাতে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাই। আমার সঙ্গে ছিল আমার মামাতো ভাই। সেই রাতে আমি রূপনগরে আমার লেখক বন্ধু মিলন আশরাফের বাসায় আশ্রয় নিই। পরবর্তী দুই-তিন রাত সেখানেই থাকি। সেই ভীতিকর সময়ে, যখন বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছিল, তখন আমাকে আশ্রয় দেওয়াটা তাঁর জন্য বেশ সাহসের ব্যাপার ছিল।

দ্বিতীয় ঘটনাটি জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুর দিকের। তখন আমি বসিলায় ‘আদর্শ’ প্রকাশনীর প্রকাশক বন্ধু মাহবুব রহমানের বাসায় থাকতাম। দিনের বেলা ঢাকায় কাজ শেষে রাতে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে সেখানে যেতাম। একদিন সকালে বৃষ্টিভেজা দিনে একটা ইজিবাইক করে এলিফ্যান্ট রোডে আসছিলাম। ফোনে আমার কথাবার্তা শুনে রিকশাচালক হঠাৎ বললেন, ‘মামা, দেশে যেভাবে চলতেছে, এবার তো একটা কিছু হইতে হবে। আমরা এরশাদের পতন দেখছি, এবার একইভাবে হাসিনার পতন দেখতে চাই।’

আমি বাটা সিগন্যালে নেমে সহকর্মীদের জন্য কেনা ১০ প্যাকেট খাবার হাতে নিচ্ছিলাম, তখন সেই সাধারণ রিকশাচালক আমাকে বললেন, ‘আপনারা দরকার মনে করলে আমাকেও আপনাদের সাথে আন্দোলনে শরিক করতে পারেন।’ একজন খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের মুখে সরকার পতনের এমন আকাঙ্ক্ষা এবং আন্দোলনে নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যুক্ত হওয়ার এই আগ্রহ আমাকে দারুণভাবে আলোড়িত করেছিল।

স্ট্রিম: আমরা দেখেছি সাংবাদিকদের মধ্যেও বিভক্তি ছিল। সেই বিভক্তির মধ্যে কাজ করাটা কঠিন হয়েছিল কী?

এহসান মাহমুদ: আমি বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলতে চাই। শেখ হাসিনা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ফ্যাসিষ্ট শাসন টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ তার পক্ষে ‘সম্মতি উৎপাদন’ করতে নিয়োজিত ছিল। রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি হওয়ার পরও পরদিন পত্রিকাগুলো হাসিনার বড় ছবি দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক জয়’ বা ‘উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে সংবাদ ছেপেছে।

যিনি একজন ফ্যাসিস্ট, খুনি, অর্থ পাচারকারী ও মানুষের ভোটাধিকার হরণকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছিলেন, তাকেই গণমাধ্যমে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বা ‘উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। আইয়ুব খানের ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ মতো হাসিনার আমলে আমরা ‘উন্নয়নের গণতন্ত্রের’ বয়ান শুনেছি। গণমাধ্যমের এই অংশের সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, রিপোর্টার বা টেলিভিশন সিইওরা এর জন্য সমানভাবে দায়ী। এমনকি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেও সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ গণভবনে গিয়ে হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। এর মানে হলো, হাসিনা যখন সাধারণ মানুষের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছিলেন, তখন এই সাংবাদিকরা তার সেই খুনি হাতকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দিচ্ছিলেন।

আমার বড় আক্ষেপ হলো, গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকার—কেউই এখন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদকে মদদ দেওয়া এসব গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি চাই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্ট্রিম: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কী ধরনের গুণগত পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন? আমরা কি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পেয়েছি?

এহসান মাহমুদ: আমি মনে করি, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই আমরা পুরোপুরি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পাইনি। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা দেখেছি মব তৈরি করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমাধ্যমের ওপর সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হামলার কিছু ঘটনা ওই সময়েই ঘটেছে। তাই ওই সময় গণমাধ্যম শতভাগ স্বাধীন ছিল, তা বলা যাবে না।

তবে বর্তমানে নির্বাচিত সরকারের আমলে সাংবাদিকতার পরিবেশ তুলনামূলক ভালো। এখন ক্ষমতাসীন দলের কোনো মন্ত্রী বা অঙ্গসংগঠনের কেউ দুর্নীতি করলে সাংবাদিকরা চাইলে তা নিয়ে রিপোর্ট করতে পারছেন। তা প্রচারও হচ্ছে। তবে আমার ব্যক্তিগত আক্ষেপের জায়গা হলো, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা আমাদের সাংবাদিকদের মানসিকতা। এখনো অনেক সাংবাদিক পূজারির মতো ক্ষমতাবানদের কাছে নিজেদের নিবেদন করতে মুখিয়ে থাকেন। ক্ষমতাবানদের তোষামোদ করার এই প্রবণতার কারণেই আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় স্বাধীন সাংবাদিকতা দেখতে পাচ্ছি না।

স্ট্রিম: জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ‘বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন’—সাংবাদিকতার জায়গা থেকে এই ধরনের রাষ্ট্র নির্মাণে গণমাধ্যমের বর্তমান ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

এহসান মাহমুদ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান স্লোগানই ছিল ‘বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ’। একদিনেই সব বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য সময় প্রয়োজন। তবে একজন গণতান্ত্রিক মানুষ হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, চব্বিশের এই লড়াই, এত রক্ত ও আত্মত্যাগের পর বাংলাদেশ আর আগের জায়গায় নেই। এখনকার মানুষ আওয়াজ তুলতে শিখেছে। তারা কথা বলবেই। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে এই বৈষম্য দূর করতেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

 

গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকার—কেউই এখন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদকে মদদ দেওয়া এসব গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি চাই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

 

এখন প্রখ্যাত চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের মতো সাংবাদিকতা খুব একটা দেখা যায় না। আমরা মূলত ‘মেট্রোপলিটন জার্নালিজম’ করছি। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রের কোথায় কোথায় বৈষম্য লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের মাঠে যেতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনা থেকে আমি দেখেছি, গত দুই দশকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সম্পদের বৈষম্য। সম্পদের এই পাহাড়সম বৈষম্য না কমালে কখনোই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সম্পদের সুষম বণ্টন ও বৈষম্য নিরসনে গণমাধ্যমকে সোচ্চার হতে হবে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আগামী দিনে আমার পেশাগত জায়গা থেকে সম্পদের এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে আমি ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ভূমিকা রাখতে চাই।

স্ট্রিম: জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনার দেখা সবচেয়ে অবিস্মরণীয় বা হৃদয়বিদারক ঘটনা কোনটি ছিল?

এহসান মাহমুদ: জুলাইয়ের ওই দিনগুলো তো কোনো সিনেমার গল্প ছিল না। ছিল আমাদের এক জীবন্ত ও চলমান যাপন। তাই এত এত ঘটনার মধ্যে আলাদা করে কোনো একটিকে বেছে নেওয়া কঠিন। তবুও কয়েকটি ঘটনা আমি উল্লেখ করতে পারি।

প্রথমত, ১৯ জুলাইয়ের ঢাকা মেডিকেল মর্গের দৃশ্য আমি জীবনেও ভুলব না। সেখানে লাশের স্তূপ পড়ে ছিল। মর্গের খাতায় লাশের পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল। সেদিন মর্গের সামনে ঢাকা টাইমসের নিহত সাংবাদিক মেহেদী হাসানের ভাই ও সন্তানকে দেখি। একজন সহকর্মীর মৃত্যু এবং তার ভাইয়ের অশ্রুভেজা লাল চোখ আমাকে বহুদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।

আরেকটি ঘটনা ছিল আজিমপুরের একজন ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু। আগের রাতে নিজের বাসার গেটের সামনেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় পরিবার তাকে দ্রুত ল্যাবএইডে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গুলিবিদ্ধ রোগীর চিকিৎসা করবে না বলে ফেরত পাঠায়। ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। চোখের সামনে ওই ব্যাংকারের সন্তান ও ভাইয়ের কান্না আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

৫ আগস্ট দুপুরে চানখাঁরপুলের ঘটনাটি ছিল আরও ভয়াবহ। আমি, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুয়াজ্জেম ও প্রকাশক বন্ধু মাহবুব সেখানে ছিলাম। হঠাৎ স্নাইপার দিয়ে গুলি শুরু হলে আমরা একটি দোকানের শাটারের নিচে আশ্রয় নিই। তখনই আমাদের ঠিক সামনেই একটি ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। জবাই করা মোরগ যেমন ছটফট করে, ছেলেটি ঠিক সেভাবেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। পুরান ঢাকার ড্রেনে তার রক্ত গড়িয়ে পড়ার সেই দৃশ্য আমি কোনোদিন ভুলতে পারব না। চোখের সামনে একটি তরতাজা প্রাণের এমন মৃত্যু দেখা সত্যিই ভয়ংকর।

একই দিন সন্ধ্যায় যখন শেখ হাসিনার পতন উপলক্ষে সারা দেশে আনন্দ মিছিল চলছে, তখন খবর পাই আমার মামাতো বোনের স্বামী দ্বীন ইসলাম যাত্রাবাড়ী থানার সামনের সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন। ছেলেটি কোরআনে হাফেজ ছিল। সেদিন মনে হলো, আমাদের নিজেদেরও একজন স্বজন হারালাম। এসব ঘটনা আসলে কোনোদিন ভোলার নয়।

স্ট্রিম: বর্তমান সময়ে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে। প্রথম দিকে মিডিয়াতে বিষয়টি তেমন না আসলেও পরে আসতে থাকে। এই ব্যাপারে মিডিয়ার কি কোনো ধরণের উদাসীনতা ছিল?

এহসান মাহমুদ: ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের আমলে বাংলাদেশকে 'জঙ্গিরাষ্ট্র' প্রমাণের একটি অপচেষ্টা ছিল। একজন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে আমি মনে করি, বর্তমান ঘটনাগুলোর পেছনেও সুনির্দিষ্ট রাজনীতি কাজ করছে।

এখানে মূলত দুটি বিষয় লক্ষণীয়। প্রথমত, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা বসে নেই। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ বা চরমপন্থী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারলেই তাদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ সুগম হবে—এমনটিই তারা মনে করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বও এখানে প্রভাব ফেলছে।


কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে মিছিলের ঘটনাটিকে আমি একটি বিচ্ছিন্ন চক্রান্ত হিসেবেই দেখি। ইসলাম শান্তির ধর্ম হলেও, ধর্মকে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী উগ্রপন্থার উত্থানের বয়ান রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সেই বয়ানটিই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।

আর গণমাধ্যমের উদাসীনতার যে কথা বলা হচ্ছে, আমি তাকে ঠিক উদাসীনতা বলব না। সংবাদমাধ্যমগুলো বর্তমানে একধরনের ভীতিকর ও সংবেদনশীল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অতীতে আমরা দেখেছি, অনেক সময় থিয়েটার বা মঞ্চনাটকের দৃশ্যকে বাস্তব বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই পতাকা মিছিলটি আসলেই বাস্তব কোনো ঘটনা নাকি সাজানো কোনো দৃশ্য, তা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ ছিল। গণমাধ্যমগুলো মূলত তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করতেই কিছুটা সময় নিয়েছে বলে আমি মনে করি।

স্ট্রিম: কিছুদিন আগে ধানমন্ডি ৩২-এ সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলো। নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সে হামলা করলো। এই ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন?

এহসান মাহমুদ: ধানমন্ডি ৩২-এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা হামলার শিকার হয়েছেন। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ থাকে। প্রথমত, অনেক সময় সাংবাদিকদের তীব্র পক্ষপাতমূলক আচরণ। সাংবাদিকরা যখন নিরপেক্ষতা হারিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করেন এবং বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন। তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন। এর মানে এই নয় যে, আমি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে বৈধতা দিচ্ছি। তবে মাঠপর্যায়ে পক্ষপাতদুষ্টতার কারণেই অধিকাংশ হামলার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয়ত, বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে গিয়েও সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন। এ দেশে সাংবাদিকদের প্রাণহানি বা অঙ্গহানির ঘটনাও ঘটেছে।

এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তথ্য মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার বিভক্তি দূর করা জরুরি।

পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা যদি বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দাবি করি, তবে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোকেও গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং সংবাদকর্মীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। তারা সাংবাদিকদের কতটা নিরাপত্তা ও উদার পরিবেশ দিতে পারছে, তার মাধ্যমেই প্রমাণ হবে দল হিসেবে তারা কতটা গণতান্ত্রিক আচরণ করতে সক্ষম।

স্ট্রিম: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

এহসান মাহমুদ: এই প্রশ্নের উত্তরে আমি তরুণ সাংবাদিকদের জন্য একটি বার্তা দিতে চাই। অনেকেই ‘সাহসী সাংবাদিকতা’ শব্দটি ব্যবহার করেন। কিন্তু আমি এতে বিশ্বাসী নই। যেমন ‘ন্যায়বিচার’ শব্দটিতে আমার আপত্তি আছে। বিচার মানেই হলো জাস্টিস বা ন্যায়বিচার; যেখানে মজলুম তার অধিকার পাবে এবং অপরাধী শাস্তি পাবে। এর জন্য আলাদা করে ‘ন্যায়’ শব্দটি যুক্ত করার প্রয়োজন নেই। একইভাবে সাংবাদিকতা মানেই সাংবাদিকতা। আলাদা করে একে ‘সাহসী’ বলার কিছু নেই।

সাংবাদিকতা করতে হলে এর মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো—কোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা বিষয়ের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া যাবে না। একজন প্রতিবেদককে অবশ্যই নৈর্ব্যক্তিক বা অবজেক্টিভ হতে হবে। সংবাদে কখনোই নিজের ব্যক্তিগত মতামত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। কেউ যখন কলাম বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ লিখবেন, সেটির হিসেব আলাদা। কিন্তু রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিককে কেবল নির্মোহভাবে ঘটনার বর্ণনা দিতে হবে। এইটুকু করতে পারলেই সেটি প্রকৃত সাংবাদিকতা হবে, এর বাইরে যা হবে তা আর সাংবাদিকতা থাকে না।

স্ট্রিম: ঢাকা স্ট্রিমকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এহসান মাহমুদ: ধন্যবাদ আপনাদেরকেও।