Image description

অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয়েছে ইরান। তবে এজন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পেজেসকিয়ান। রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তেহরানের এই তিন শর্ত দেয় এবং শর্ত থেকে অনড় অবস্থানের কথাও জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

বুধবার (১১ মার্চ) রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দওেয়া এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করার একমাত্র উপায় হলো ইরানের তিনটি শর্ত পূরণ করা। সেগুলো হলো- ১. ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের ন্যায্য অধিকার মেনে নিতে হবে। ২. সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান। ৩. ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো হামলা যেন না হয়, তা প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইসরায়েল’-কে এই যুদ্ধ শুরুর জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে, ওই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।

এর আগে বুধবার রাতের শেষভাগে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একযোগে ১০০ রকেট নিক্ষেপ করেছে ইরান-হিজবুল্লাহ ব্যাপক রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

আল-জাজিরার সংবাদ প্রতিবেদক লেবানন সীমান্ত থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ গত কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত তিনটি বড় ধরনের এক ঝাঁক রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, লেবানন থেকে অন্তত ১০০টি রকেট ছোড়া হয়েছে। এই হামলার তীব্রতা এতই বেশি যে, উত্তর ইসরায়েলের আকাশ কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী (আইডিএফ) উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং সবাইকে দ্রুত বোম্ব শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

কিরিয়াত শমোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী হাইফার আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরার প্রতিবেদক। এছাড়া ইসরায়েলের শহরগুলোতে অনবরত বিমান হামলার সাইরেন বাজছে, যা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।