ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সিরিজ বিমান হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জ্বালানি ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অনুরূপ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসির ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। খবর আলজাজিরার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপরাধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট সরকার ইরানের ওপর আগ্রাসন চালিয়ে নিরপরাধ শিশু, অসহায় নারী-পুরুষ ও সাধারণ বেসামরিক মানুষকে হত্যা করা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করতে পারেনি।
আইআরজিসির মুখপাত্র উল্লেখ করেন, আগ্রাসীরা এখন নতুন করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও জনগণের সেবাকেন্দ্রগুলোকে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। যা যুদ্ধের ভয়াবহতাকে সীমাহীন ও নিষ্ঠুর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা সরাসরি জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একই ধরনের আক্রমণ চালানো থেকে বিরত রয়েছেন। তবে ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা বন্ধ না হলে এই নীতি পরিবর্তন করে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও বড় ধরনের আঘাত হানা হবে।
খাতাম আল-আম্বিয়ার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আশা করি মুসলিম দেশগুলোর সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই কাপুরুষোচিত ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট সরকারকে সতর্ক করবে। যাতে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি তেল ডিপো ও জ্বালানি শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইতোমধ্যে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম।